২০২৫ সালে ভারতের রিনিউএবল এনার্জি সেক্টর আর শুধু “অলটারনেটিভ” নয়; এখন সেটা দেশের পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেম-এর অন্যতম অংশীদার। সোলার, উইন্ড, বায়োমাস, স্মল হাইড্রো - সব মিলিয়ে গ্রিডে ক্লিন ইলেকট্রিসিটি যোগ করার পরিমাণ আগের যেকোনও বছরের তুলনায় অনেক বেশি।
২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সংস্থাপিত ক্ষমতা (Installed Capacity) পৌঁছেছে প্রায় ৫০৫,০২৩ মেগাওয়াটে (MW), যার মধ্যে অ-জীবাশ্ম জ্বালানি (Non-fossil fuel) ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট ক্ষমতা ২৫৯,৪২৩ মেগাওয়াট।
রেকর্ড ব্রেকিং পরিসংখ্যান: ২৯ জুলাই, ২০২৫
ভারতের ইতিহাসে এক অনন্য নজির সৃষ্টি হয় ২০২৫ সালের ২৯শে জুলাই। ওইদিন দেশের মোট ২০৩ গিগাওয়াট (GW) পিক ডিমান্ড বা সর্বোচ্চ চাহিদার ৫১.৫ শতাংশই মেটানো হয়েছে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির মাধ্যমে। এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রেকর্ড ২৯.৫৩ গিগাওয়াট (GW) নতুন পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।
২০২৫ সালের মাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন চিত্র (MU)
| মাস | বায়ুশক্তি (Wind) | সৌরশক্তি (Solar) | অন্যান্য* | মোট (Excl. Hydro) |
|---|---|---|---|---|
| জানুয়ারি | ৪,০৭৫.১২ | ৯,০০৮.৪৭ | ২,৯৭৯.৮০ | ১৬,০৬৩.৩৯ |
| ফেব্রুয়ারি | ৪,৯০৭.৫৮ | ১০,৪২১.২২ | ২,৬৭০.০৬ | ১৭,৯৯৮.৬৪ |
| মার্চ | ৫,১৩৩.৬৩ | ১৬,৮১১.৩৮ | ২,১৯৬.২৬ | ২৪,১৪১.২৭ |
| এপ্রিল | ৬,৩৩০.৭১ | ১৫,৮১১.৮২ | ১,৭০৩.৫৫ | ২৩,৮৪৬.০৮ |
| মে | ৮,২৫৭.৬৩ | ১২,৬৪৫.৯৯ | ১,৫৯৭.৯৪ | ২২,৫০১.৫৬ |
| জুন | ১০,১৩৪.৯২ | ১১,৪৪৫.৬৬ | ১,৪৭১.৬৯ | ২৩,০৫২.২৭ |
| জুলাই (Max) | ১৩,৬২৭.০০ | ১০,৩৫৬.৩৫ | ১,৯৮৪.৬১ | ২৫,৯৬৭.৯৬ |
| আগস্ট | ১০,২৬৮.৮৮ | ১০,১৫৭.৫২ | ২,২৭৮.৮৪ | ২২,৭০৫.২৪ |
| সেপ্টেম্বর | ৮,৮৭০.৬২ | ১১,৩০২.৬২ | ২,২২২.৮১ | ২২,৩৯৬.০৫ |
| অক্টোবর | ৩,২৩৮.২৮ | ১২,২৫৬.৬১ | ২,২০৭.৪৮ | ১৭,৭০২.৩৭ |
| নভেম্বর | ৩,১০৯.৩৩ | ১১,২৪৬.৫২ | ২,৩৯৯.৪১ | ১৬,৭৫৫.২৬ |
| ডিসেম্বর | ৫,০০৯.০৬ | ১৪,৯৪৬.৮৩ | ৩,৩৭৫.৫০ | ২৩,৩৩১.৩৯ |
| বার্ষিক মোট | ৯০,৮৭১.২৩ | ১,৫০,৭৫০.৭৫ | ২৬,৮৩৬.৫ | ২,৫২,৪৫৮.৫ |
*অন্যান্য: বায়োমাস, বাগাস ও ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ উৎস অন্তর্ভুক্ত।
২০২৫ সালের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনের গ্রাফ
২০৩০ সালের লক্ষ্যের পথে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভাবনীয় সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে তিনটি বিষয়ে নজর দেওয়া অপরিহার্য:
- ব্যাটারি স্টোরেজ: সৌর ও বায়ুশক্তির অস্থিতিশীলতা কাটাতে এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (Battery Storage & Pumped Hydro) বাড়ানো।
- গ্রিড ট্রান্সমিশন: আন্তঃরাজ্য ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার আরও শক্তিশালী করা।
- পিএম সূর্য ঘর যোজনা: এই প্রকল্পের মাধ্যমে রুফটপ সোলারকে আরও প্রান্তিক পর্যায়ে জনপ্রিয় করা।
উপসংহার
২০২৫ সালের এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেয় যে, ভারত এখন শক্তির স্বনির্ভরতার পথে। সৌর ও বায়ুশক্তির এই রেকর্ড উৎপাদন কেবল পরিবেশ রক্ষা করছে না, বরং নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ নিশ্চিত করছে।
No comments:
Post a Comment