Showing posts with label Science in Life. Show all posts
Showing posts with label Science in Life. Show all posts

9 Mar 2026

কার্ল মার্কসের গণিতচিন্তা: ক্যালকুলাস ও লিমিট নিয়ে এক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি

কার্ল মার্কসের গণিতচিন্তা (Marx’s Mathematical Thinking) কেবল তত্ত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল গণিতের গভীরে লুকিয়ে থাকা যুক্তির অন্বেষণ। তাঁর বিখ্যাত ম্যাথমেটিক্যাল ম্যানুস্ক্রিপ্টস (Mathematical Manuscripts)-এ তিনি তৎকালীন ক্যালকুলাস ও লিমিট (Calculus and Limit) ধারণার প্রচলিত ব্যাখ্যা নিয়ে বেশ কিছু মৌলিক প্রশ্ন তুলেছিলেন। বিশেষ করে ডেরিভেটিভ ও ইনফিনিটেসিমাল (Derivative and Infinitesimal) এর মতো বিষয়গুলোকে তিনি কীভাবে দ্বান্দ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করেছিলেন, তা আজও বিস্ময়কর। মূলত মার্কস ও গণিত (Marx and Mathematics) এর এই মেলবন্ধন আমাদের দেখায় যে, সমাজতত্ত্বের বাইরেও বিজ্ঞানের ভিত্তিগত দর্শনে তাঁর কতটা দখল ছিল।

গণিতের ক্যালকুলাস শাখার উদ্ভাবক হিসেবে প্রধানত দুইজন বিজ্ঞানীর নাম জড়িয়ে আছে। স্যার আইজ্যাক নিউটন এবং গটফ্রিড উইলহেল্ম লিবনিজ। কিন্তু উনিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ কার্ল মার্কস-ও ক্যালকুলাসের তাত্ত্বিক ও লজিক্যাল ভিত্তি নিয়ে গভীরভাবে ভেবেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর নোটবুক থেকে 'ম্যাথমেটিক্যাল ম্যানুস্ক্রিপ্টস' প্রকাশিত হয়, যা গণিত জগতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দেয়।

Karl Marx Mathematical Manuscripts

20 Jan 2026

ভারতে সৌর-বিকিরণ কমছে: সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১.২১% হ্রাসের অশনি সংকেত

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সোলার ফটোভোলটাইক (SPV) পাওয়ার পোটেনশিয়াল মানচিত্র

সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে অশনি সংকেত: প্রতি বছর ১.২১% হারে কমছে উৎপাদন ক্ষমতা!

ভারতে সৌর শক্তিকে ভবিষ্যতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে ধরা হচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা জানাচ্ছে, বাস্তবতা কিছুটা জটিল; প্রকৃতি ও দূষণের যৌথ প্রভাবে ব্যবহারযোগ্য সৌর বিকিরণ (Solar Radiation) ক্রমশ কমছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (India Meteorological Department)-এর এক সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সোলার রেডিয়েশন ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে, যার ফলে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১.২১ শতাংশ হারে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

9 Jan 2026

সোলার প্যানেলের দূরত্ব ও ছায়ার হিসাব: পশ্চিমবঙ্গের জন্য সহজ গাইড

পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত সোলার প্যানেল বসানোর সঠিক দূরত্ব ও ছায়ার হিসাব (Shadow Factor) নিয়ে বিস্তারিত গাইড।

পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে গঙ্গাসাগর - আপনার জেলায় সোলার প্যানেলের সঠিক দূরত্ব ও ছায়ার হিসাব নির্ণয় করুন এই গাইড থেকে।

Solar Panel Shade Calculator: West Bengal Location wise Guide

নিজের বাড়ির ছাদে রুফটপ সোলার সিস্টেম থাকলে নিজের বিদ্যুৎ নিজেই তৈরি করে নেওয়া যায়। বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের বর্তমান রেগুলেশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প, পিএম সূর্য ঘর মুফতি বিজলি যোজনায় আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকায় পশ্চিমবঙ্গে এটি ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে।

বাড়ির ছাদে সিস্টেম বসানোর আগে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দক্ষিণমুখী, খোলা এবং ছায়ামুক্ত পর্যাপ্ত জায়গা আছে কিনা তা নিশ্চিত করা। পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শিলিগুড়ি থেকে গঙ্গাসাগ - সব জায়গায় সোলার প্যানেল বসানোর নিয়ম বা পদ্ধতি এক হবে না।

5 Jan 2026

ম্যাক্স বর্ন: নাৎসি জার্মানি, কোয়ান্টাম বিপ্লব ও নির্বাসিত বিজ্ঞানী

নাৎসি জার্মানি, ম্যাক্স বর্ন এবং কোয়ান্টাম বিপ্লব: যখন রাষ্ট্রনীতি বিজ্ঞানের শত্রু হয়

ভূমিকা

মুক্তচিন্তা ও জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার ওপর যখন শাসকের নিয়ন্ত্রণ চেপে বসে, তখন শুধু সরকার নয়, ধ্বংস হয় একটি সভ্যতার বৌদ্ধিক মেরুদণ্ড। বিশ শতকের ত্রিশের দশকে নাৎসি জার্মানিতে ঠিক সেটাই ঘটেছিল। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পরে, অ্যাডলফ হিটলার এমন কিছু আইন চালু করেন, যার প্রভাব শুধু ইহুদি জনগোষ্ঠীর ওপর নয়, বরং সমগ্র আধুনিক বিজ্ঞানের গতিপথকে বাধাগ্রস্ত করে। ইতিহাসের এই দুঃসময়ের মধ্যেই জড়িয়ে আছে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অন্যতম স্থপতি ম্যাক্স বর্নের (Max Born) জীবন ও সংগ্রামের গল্প।

3 Jan 2026

পোস্তদানা ও কলম্বাসের চালবাজি: চাঁদের রহস্য

ভূমিকা

কবিরা চাঁদকে নিয়ে কবিতা লেখেন, সাহিত্যিকরা লেখেন গল্প। হার্ডকোর বস্তুবাদীদের কাছে সেটি নেহাতই একটা 'সেলিস্টিয়াল বডি', পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশী এবং একমাত্র উপগ্রহ। চাঁদ বিষয়ে আমাদের অপার কৌতূহল। এখন মুন এক্সপ্লোরাররা চাঁদের মাটিতে 'হিলিয়াম ৩' বা ট্রিটিয়াম খুঁজছে। গোটা পৃথিবীতে নাকি এই অমূল্য জ্বালানি মাত্র ৮০ কেজির মতো আছে।

নিউটাউনের বাঁশবাগানে পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় আকাশ
চিত্রঃ নিউটাউনে বাঁশবাগানে চাঁদের আলো

খেলার মাঠের স্কেলে সৌরজগৎ

একটি বিশাল ফুটবল মাঠকে মাপার স্কেল মনে করা যাক। এই মাঠের এক প্রান্তে রাখা একটি গরুর গাড়ির চাকা সূর্য হলে, অন্য প্রান্তে রাখা একটি ছোট্ট মটরশুঁটির দানা হবে এই পৃথিবী। এই স্কেলে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব মাত্র ৮৫ মিটার হলেও, নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরি থাকবে প্রায় ২৩,০০০ কিলোমিটার দূরে।

নাসরিনের গল্প ও চাঁদের নজরদারি

ছোটবেলায় নাসরিন তার মাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, "চাঁদ কেন ঘুমায় না?" মা বলেছিলেন, "শিশুরা না ঘুমানো পর্যন্ত চাঁদ জেগে থাকে।" আজ নাসরিনের চুলে পাক ধরেছে। নাতির তাকে সে একই প্রশ্ন করে। তিনি উত্তর দেন, "দুষ্টুদের ওপর নজর রাখার জন্য চাঁদ জেগে থাকে।"

সাহিত্যের জ্যোৎস্না বনাম বাস্তব

নজরুল লিখেছেন, "চাঁদ হয়ে রব আকাশের ও গায়।" অন্যদিকে ক্ষুধার্ত সুকান্তর চোখে পূর্ণিমার চাঁদ ছিল 'ঝলসানো রুটি'। পুরাণে চাঁদের বয়স সাত লক্ষ কুড়ি বছর বলা হলেও বিজ্ঞানের হিসেবে তা প্রায় ৪৪২.৫ কোটি বছর।

কৌশলী কলম্বাস

১৫০৪ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি। কলম্বাস জানতেন সেদিন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হবে। তিনি স্থানীয় সর্দারকে ভয় দেখিয়ে বললেন, 'ঈশ্বর ক্রুদ্ধ হয়েছেন, আজ রাতে তিনি চাঁদকে গিলে ফেলবেন!' যখন গ্রহণ শুরু হলো, স্থানীয়রা ভয়ে খাবারে ভাণ্ডার খুলে দিল। এই কৌশলে কলম্বাস ও তাঁর সঙ্গীরা রক্ষা পেয়েছিল।

চাঁদের পাহাড়

আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বত কিলিমাঞ্জারো তুষারাবৃত চূড়ার কারণে ইউরোপীয় এক্সপ্লোরারদের কাছে পরিচিত ছিল “The Mountain of the Moon” হিসেবে। কিলিমাঞ্জারো যেন রুক্ষ আফ্রিকার বুকে এক রহস্যময় চাঁদের পাহাড়।

ফিরে যাওয়া

১৯৭২ সালের পর মানুষ আর চাঁদে যায়নি। তবে নাসা তাদের আর্টেমিস কর্মসূচি অনুযায়ী ২০২৬ সালে নভোচারীদের আবার চাঁদের কক্ষপথে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা হবেন এই শতকের প্রথম মানুষ যারা এত কাছ থেকে চাঁদকে দেখবেন।

শেষকথা

চাঁদ বিজ্ঞানীর কাছে খনিজ ভাণ্ডার, কবির কাছে বিলাপের সুর, আর আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাছে এক অদ্ভুত বিস্ময়। চাঁদ আজও জেগে আছে, এবং সে জেগে থাকবে আরও কয়েক বিলিয়ন বছর।


আরও পড়ুন: উত্তর মেরুর বাড়ি ও বছরের শেষ পাটিসাপটা: ট্যাবলেটের সাথে এক সন্ধ্যা!

30 Dec 2025

গোপেন বাবুর ফর্মিকিউরিয়াম এবং দুর্ধর্ষ পিঁপড়ের কামড়

শখের এন্টোমলজিস্ট গোপেন বাবু

আমাদের প্রতিবেশী গোপেন বাবু আমার কাকার বন্ধু। একটা স্কুলে জুলজি পড়ান এবং শখের এন্টোমলজিস্ট। শুনেছি গোপেন বাবু ছোটবেলায় গঙ্গাফড়িং দেখেই প্রাণীবিদ্যার প্রেমে পড়েন। মাস্টার্স করার সময় ইথোলজি’র স্যার তাঁকে একবার ‘গুবরে’ পোকা বলায়, আর কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পা মাড়াননি।

বাড়িতে বিভিন্ন পোকামাকড়ের কলোনি বানিয়ে গোপেন বাবু তাদের আচরণ ও অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করেন। প্রতিদিন সন্ধ্যায় তিনি আমাদের বাড়িতে কাকার সাথে আড্ডা দেন, লুডো খেলেন আর যত রাজ্যের পোকামাকড়ের অদ্ভুত সব আচরণের গল্প শোনান।

হারকিউলাস বিটল যারা নিজের ওজনের প্রায় ৮০০ গুন ভার বইতে পারে, ব্রাজিলিয়ান ট্রি হপার, অস্ট্রেলিয়ার ওয়াকিং স্টিক বা উড়ন্ত স্করপিয়নের গল্প গোপেন বাবুর কাছেই শোনা। পোকামাকড়ে আমার ইন্টারেস্ট না থাকলেও তাঁর কন্টিনিউয়াস ধারাভাষ্য আমার কান ফাঁকি দিতে পারেনা।

কীটপতঙ্গ বনাম পোকামাকড়

আমি অবশ্যি এই বিষয়ে শুধু গোপাল ভট্টাচার্যির নাম শুনেছি। তাঁর একটা বইও আছে, 'বাংলার কীটপতঙ্গ'। কাকা জেনেবুঝে “পোকামাকড়’ বলে কিনা জানিনা, তাতে গোপেন বাবুর গোসা হয়; বলেন, ‘পোকামাকড়’ নয়, বলো ‘কীটপতঙ্গ’। আমার কাছে দুটিই সমান।

কুমোর বোলতা এক ধরনের ছোট্ট বোলতা, যে একা একা বাসা বানায়। মাটির কাদায় সে ছোট একটা হাড়ির মতো এই বাসা  কাদা মাটি দিয়ে তৈরি করে

গোপেন বাবুর রিডিংরুমে সব দেশী-বিদেশী জার্নাল আর নানান পোকামাকড়ের বই। ইনসেক্টোলজি, বাগোলজি, আরাকনোলজি, লেপিডোপ্টেরোলজি, এপিওলজি। সবই মাকড়সা, প্রজাপতি, মথ, বিটল, মৌমাছি বিষয়ে লেখা । বারান্দা আর ঘর মিলিয়ে যে ল্যাবরেটরি বানিয়েছেন সেটা কাঁচ আর তারের জালি দিয়ে ঘেরা। ভেতরে কাচের জার, পোর্সেলিনের বিভিন্ন বয়ম, পোড়া মাটির মালসা, কলসি বিভিন্ন সাইজের কাঁচের আর প্লাস্টিকের টিউব দিয়ে জুড়ে বিভিন্ন পোকার কৃত্রিম কলোনি। আমায় বলেছেন, এসবই নাকি এক একটা ফর্মিকিউরিয়াম। বাগানে দুটি বি-হাইভ আছে কিন্তু কোনও দিন চাক ভেঙে মধু খেয়েছেন বলে মনে হয় না।

পিঁপেঁ সাম্রাজ্যের অন্দরমহল

খাবার হিসেবে চিটেগুড়, চিনির দলা, চাল-গম আর গাছের পাতা-ফুলের স্টক থাকে সেখানে। শুনেছি মাঝে মধ্যে জ্যান্ত ইঁদুরও নাকি পোকাদের খাওয়ার মেনু হিসেবে থাকে। পি-এইচ মাত্রা ঠিক রাখা দশ লিটারের জার থেকে নির্দিষ্ট সময়ে জল খাওয়ানোর ব্যবস্থা আছে।

হারভেস্টার অ্যান্ট অর্থাৎ মেসর পিঁপড়েদের জন্য আলাদা করে গম, ছোলা, বাদাম রাখা আছে। ওদের কাজই নাকি মাঠ থেকে দানা কুড়িয়ে এনে গুদাম ভরা। গোপেন বাবু বলেছিলেন, মেসররা একবার খাবার জমালে দুর্ভিক্ষেও না খেয়ে মরে না! আবার কার্পেন্টার অ্যান্টদের জন্য অন্য বন্দোবস্ত। বড় কালো পিঁপড়ে। এদের দেখতে ভারী, চলাফেরা ধীর কিন্তু ভয়ানক ধৈর্যশীল। কাঠে গর্ত করে বাসা বানায়, কাঠ খায় না কিন্তু কাঠ কেটে কেটে বাড়িটাই শেষ করে দেয়। গোপেন বাবু হেসে বলেছিলেন, এরা শ্রমিক শ্রেণির মতো পিঁপড়ে; নিঃশব্দে কাজ করে।

অস্ট্রেলিয়ান রাইডারের আক্রমণ

কাকার সাহায্য নিয়ে গোপেন বাবু একটা ল্যাবরেটরি বানিয়েছেন। সেখানে পোকামাকড়দের উপর ম্যাগনেটিক ফিল্ড, ইলেকট্রিক ফিল্ড, বিভিন্ন রঙের আলো এবং নানান আতরের গন্ধ কেমনভাবে তাদের গতি প্রকৃতি আর আচরণে প্রভাব ফেলে তা পর্যবেক্ষণ করার যন্ত্রপাতি আছে। কাকার কাছেই শুনেছি, গোপেন বাবু শুরুটা করেছিলেন উই দিয়ে। কিন্তু তাঁর স্ত্রী বলেছিলেন, ‘বাড়িতে হয় উই থাকবে অথবা আমি’। উই বাড়িতে ঠাঁই পায়নি।

শনিবার সকালে গোপেন বাবুর সাথে দেখা। বললেন, “আজ অস্ট্রেলিয়ান রাইডারের নতুন কলোনি আসছে। কাকার খবরটা দিও।” সন্ধ্যায় আড্ডায় গোপেন বাবু জানালেন, অস্ট্রেলিয়ান রাইডার বা বুলডগ পিঁপড়ে বিষাক্ত এবং প্রায় ৩০ মিলিমিটার সাইজের হয়। এদের খাদ্য অন্য পিঁপড়ে। তিনি এদের ছেড়েছেন লাল পিঁপড়েদের কলোনিতে। বিকেলে দেখা গেল রাইডারগুলো লাল পিঁপড়ে ধরে ধরে খাচ্ছে।

বাঁচার লড়াই

রোববার বিকেলে রাইডারের কলোনিটি দেখতে গিয়ে মনে হলো লাল পিঁপড়েরা কেমন যেন সন্ত্রস্ত! কিন্তু যেটা দেখে ভালো লাগল সেটা হলো, দল বেঁধে লাল পিঁপড়েরা রাইডারদের সাথে সমানে লড়ে যাচ্ছে। ফেরার সময় মনে হলো, লাল পিঁপড়েগুলো জিতে গেলেই ভালো!

দু’দিন গোপেন বাবুর দেখা নেই। বুধবার রাত্তিরে যখন এলেন, দেখলাম তাঁর মুখটা কেমন ফোলা ফোলা। কাকার কাছে স্বীকার করলেন, সোমবার রাইডারগুলো সব শেষ আর লাল পিঁপড়েরা সেই কলোনির দখল নিয়েছে। একটা রাইডারও আস্ত নেই। গোপেন বাবুকে বেশ ম্রিয়মাণ লাগছে কিন্তু আমার কেন জানিনা বেশ আনন্দ হচ্ছে! তিনি ফের বললেন, সেই লাল পিঁপড়ে কেমন ভাবে যেন এমন কামড় দিয়েছে, দু’দিন বসতেই পারেননি।

হঠাৎ মনে হলো, পোকামাকড়দের মধ্যে সবচেয়ে বড় মস্তিষ্ক তো পিঁপড়েদেরই। আর তাদের মধ্যে লাল পিঁপড়ে বা মেসর পিঁপড়েরা যারা দল বোঝে, সময় বোঝে; তাদের কালেকটিভ ইন্টিলিজেন্স যে কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করতে শেষ চেষ্টা করে যায়। মনে হলো, সভ্যতা শুধু হিংস্রতায় টিকে থাকে না, টিকে থাকে যারা জোটবদ্ধ হয়ে লড়ে, তাদের হাতেই শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা যায়।

29 Dec 2025

জিঙ্গল, কাঁপুনি এবং জিগলিং: ট্যাবলেটের সাথে এক সন্ধ্যা

A steaming cup of tea on a wooden table with a conceptual overlay showing molecular vibration

রাতে আমার ভাইপো, অর্কপ্রভ ওরফে ট্যাবলেট-এর সাথে শব্দজব্দ খেলছিলুম। খুব একটা ঠান্ডা নেই, তবুও গা গরম রাখতে বার কয়েক চা খেয়েছি। প্রথম দানেই ট্যাবলেট আমায় একদম কাবু করে ফেলল।

(১)

খেলাটা শুরু হলো এইভাবে - ট্যাবলেট যা প্রশ্ন করবে, আমায় তার ভুল উত্তর দিতে হবে। পরপর তিনটি প্রশ্নের উল্টোপাল্টা উত্তর শুনে, ও দুম করে জিজ্ঞাসা করল, “কাকা তোমায় ক’টা প্রশ্ন করেছি?” আমি সহজভাবে 'তিন' বলায় ও হেসে বলল, “উঁহু, তুমি ফেল!” আমি ব্যাপারটা বুঝেই বললুম, “শেষ প্রশ্ন ধরলে চার, তাই আমি তিনে সেরেছি!”

4 Dec 2025

আর্নেস্ট পাউলি: আধুনিক কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার অন্যতম স্থপতি

উলফগ্যাঙ পাউলি: অঘটনঘটনপটু এক পদার্থবিদের গল্প

Wolfgang Pauli — pioneer of quantum physics

আধুনিক কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার স্থপতি উলফগ্যাঙ পাউলি

সুইস ফেডারেল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক উলফগ্যাঙ আর্নেস্ট পাউলি – আধুনিক কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার একজন অন্যতম স্থপতি। ১৯৪৬ সালে নোবেল প্রাইজ পাওয়ার পর আইনস্টাইন পাউলিকে তাঁর যোগ্য উত্তরসূরির স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

অঘটনঘটনপটু ‘পাউলি এফেক্ট’

পাউলি ছিলেন অঘটনঘটনপটু! তিনি যদি কখনও কোনও এক্সপেরিমেন্টের কাছাকাছি চলে আসতেন, তখন যন্ত্রপাতিগুলি হঠাৎ কাজ করা বন্ধ করত বা ল্যাবে দুর্ঘটনা ঘটত। সহকর্মীরা মজা করে একে বলতেন ‘পাউলি এফেক্ট’। এমনকি একবার ল্যাবে দুর্ঘটনা ঘটার সময় পাউলি সেখানে ছিলেন না, পরে জানা যায় তিনি যে ট্রেনে ছিলেন সেটি তখন ল্যাবের পাশ দিয়েই যাচ্ছিল!

এক্সক্লুশন প্রিন্সিপ্যাল (Exclusion Principle)

সহজ কথায়, একটি পরমাণুর মধ্যে প্রতিটি ইলেকট্রনের কোয়ান্টাম অবস্থা আলাদা। খানিকটা বহুতল হস্টেল বিল্ডিংয়ের সিঙ্গেল শেয়ার রুমে যেমন দুজন আবাসিক একসাথে থাকতে পারেন না, ইলেকট্রনরাও তেমন।

অপবিজ্ঞানকে ব্যাখ্যা করার সময় পাউলি বলতেন, ‘এটা ভুলও নয়’ (Not even wrong)। অর্থাৎ গবেষণা পত্রটি এতটাই আজগুবি যে তাকে ভুল বলার মতো যুক্তিও নেই!

মুরগিটি রাস্তা পার হল কেন? এই ধাঁধায় পাউলির উত্তর হতো— “এপারে আরও একটি মুরগি ছিল!” তাঁর এক্সক্লুশন প্রিন্সিপ্যাল অনুযায়ী, একই পরমাণুর কোনো দুটি ইলেকট্রনের চারটি কোয়ান্টাম নাম্বার এক হতে পারে না!

পাউলি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রতিভাবান পদার্থবিজ্ঞানী। ১৯০০ সালে জন্ম নেওয়া এই বিজ্ঞানী ১৯৫৮ সালে বিদায় নিলেও কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের কোপেনহেগেন ব্যাখ্যায় তাঁর অবদান আজও অম্লান।

3 Dec 2025

কাল্পনিক সংখ্যা: পঁচিশ টাকার আলু থেকে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের রহস্য

কাল্পনিক সংখ্যা বা Imaginary Number কী? গণিতের এক অদ্ভুত জাদুর দুনিয়া

পঁচিশ টাকা আলুর কেজি। তিন কেজি কিনে একশো টাকা দিলে ফেরত পাবেন পঁচিশ টাকা। এই সাধারণ হিসাবের জন্য আমাদের খুব একটা অঙ্ক জানার দরকার হয় না। কিন্তু অঙ্কের নাম শুনলেই অনেকের জ্বর আসে। আমারও আসতো! তবে আজ এমন এক সংখ্যার কথা বলবো যা আপনার ভাবনার জগতকে বদলে দেবে।

একটি অদ্ভুত প্রশ্ন ও গণিতবিদদের মাথাব্যথা

এবার একটি প্রশ্ন করা যাক - কোন সংখ্যাকে সেই সংখ্যার সঙ্গে গুণ করে $1$ যোগ করলে যোগফল $0$ হয়? বন্ধুরা ভাববে, “উফফ! আবার অঙ্ক!” কিন্তু মজার বিষয় হলো, আজ থেকে প্রায় চারশো বছর আগে এই সমীকরণ সমাধান করতে গিয়ে বড় বড় গণিতবিদরাও হিমশিম খাচ্ছিলেন।

গাণিতিক ভাষায় সমস্যাটি ছিল এমন:

$$x^2 + 1 = 0$$

অর্থাৎ, এমন একটি সংখ্যা $x$ খুঁজে বের করতে হবে যার বর্গ হবে $-1$ ($x^2 = -1$)।

বাস্তব সংখ্যার সীমাবদ্ধতা

আমরা জানি, বাস্তব সংখ্যা (Real Number) মানে হলো সেই সব সংখ্যা যা আমরা কল্পনা করতে পারি—যেমন ধনাত্মক, ঋণাত্মক, ভগ্নাংশ কিংবা দশমিক। কিন্তু বাস্তব জগতের নিয়ম হলো, কোনো সংখ্যাকে সেই সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে (বর্গ করলে) তা কখনোই ঋণাত্মক হতে পারে না।

$$(+1) \times (+1) = 1$$

$$(-1) \times (-1) = 1$$

তাহলে এমন কোন সংখ্যা আছে যার বর্গ হবে $-1$? বাস্তব জগতে এমন কোনো সংখ্যার অস্তিত্ব নেই!

কাল্পনিক সংখ্যার জন্ম (Imaginary Number)

ষোড়শ শতাব্দীতে ইতালীয় গণিতবিদ রাফায়েল বম্বেলি (Rafael Bombelli) এক সাহসী সমাধান দিলেন। তিনি বললেন, “কেন নয়? আমরা এমন একটি সংখ্যা কল্পনা করতেই পারি যার মান হবে মাইনাস একের বর্গমূল ($\sqrt{-1}$)।”

যেহেতু আমাদের বাস্তব সংখ্যার জগতে এর কোনো দেখা মেলে না, তাই এর নাম দেওয়া হলো কাল্পনিক সংখ্যা বা Imaginary Number। গণিতে একে ইংরেজির ছোট হাতের $i$ (আই) দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

$$i = \sqrt{-1}$$

কাল্পনিক সংখ্যার ম্যাজিক

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, দুটি কাল্পনিক সংখ্যা গুণ করলে একটি বাস্তব সংখ্যা ($-1$) পাওয়া যায়। যেমন:

$$i \times i = -1$$

আবার একে চারবার গুণ করলে পাওয়া যায় বাস্তব ধনাত্মক সংখ্যা ($1$)। এটি যেন বিজ্ঞানের এক অনন্য ম্যাজিক!

ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিজ্ঞানে এর ব্যবহার

আপনি কি জানেন? ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ কারেন্ট (Current)-কে '$I$' দিয়ে প্রকাশ করা হয়। তাই সেখানে গণ্ডগোল এড়াতে কাল্পনিক সংখ্যাকে '$i$'-এর বদলে ইংরেজিতে $j$ (জে) দিয়ে লেখা হয়।

আজকের আধুনিক সভ্যতা এই ইমাজিনারি নাম্বার ছাড়া অচল। এর প্রয়োগ রয়েছে:

  • কোয়ান্টাম মেকানিক্স: পরমাণুর ভেতরের রহস্য বুঝতে
  • বৈদ্যুতিক সার্কিট: জটিল এসি (AC) কারেন্টের হিসাব মেলাতে
  • কম্পিউটার সিগন্যাল প্রসেসিং: ভিডিও বা অডিওর মান উন্নত করতে
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI): আধুনিক ডেটা সায়েন্সের জটিল হিসাবে

উপসংহার

অঙ্ক কেবল খাতা-কলমের হিসাব নয়, বরং কল্পনা আর বাস্তবের সেতুবন্ধন। চারশো বছর আগের সেই "মাথা চুলকানো" সমস্যাটিই আজ আমাদের আধুনিক প্রযুক্তির ভিত্তি।

গ্রাভিটি বিষয়ে পড়ুন - ছুটিরদিনে গ্রাভিটি

24 Mar 2025

সুনীতা উইলিয়ামস ও সময়ের খেলা: মহাকাশে বয়স বাড়ার বিজ্ঞান

মহাকাশে দীর্ঘ সময় কাটালে মানুষের বয়স কী সত্যিই বদলে যায়? আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদের সূত্র ব্যবহার করে সুনীতা উইলিয়ামসের মহাকাশ যাত্রার সময়ের হিসাব বুঝে নেওয়া যাক।

সময়ের বিভ্রমের একটি পরাবাস্তব চিত্র — গলে পড়া ঘড়ি, বিশাল বালুঘড়ি ও মহাজাগতিক নক্ষত্রপুঞ্জ
ছবিঃ সময়ের বিভ্রম: একটি কাল্পনিক মহাজাগতিক যাত্রা (Illusion of Time: A Surreal Cosmic Journey)

মহাকাশ থেকে বয়স বাড়িয়ে ফিরলেন সুনীতা উইলিয়ামস: আইনস্টাইনের সময়ের গোলকধাঁধা

২৬০ দিনের মহাকাশ যাত্রা ও সময়ের হিসাব

আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে (ISS) দীর্ঘ ২৬০ দিন কাটিয়ে পৃথিবীতে ফিরেছেন সুনীতা উইলিয়ামস। ফিরে এসে তাঁর সামান্য আফসোস হওয়াটা একেবারেই অস্বাভাবিক নয়। কারণ, মহাকাশের এই সুদীর্ঘ সময় তাঁর বয়সকে সামান্য বাড়িয়ে দিয়েছে। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, বিজ্ঞানের হিসেবে সুনীতা তাঁর সমবয়সীদের চেয়ে এখন ৬.৫৮ মিলিসেকেন্ড বেশি বয়স্ক!

বয়স কেন বাড়ল? গতির বনাম মাধ্যাকর্ষণ

পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে প্রায় ৭,৬৬০ কিলোমিটার দূরের কক্ষপথে সেকেন্ডে ৭.৫ কিলোমিটার গতিতে ২৬০ দিন ধরে ঘুরপাক খাওয়ার সময় সুনীতার ওপর পদার্থবিজ্ঞানের দুটি বিপরীত ধর্ম কাজ করেছে:

  • সময় কমে যাওয়া (Time Dilation due to Velocity): মহাকাশ কেন্দ্রের প্রচণ্ড গতির কারণে ২৬০ দিনে তাঁর বয়স কমেছে প্রায় ০.০০৭৭২ সেকেন্ড। আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতাবাদ অনুযায়ী, গতি বাড়লে সময় ধীর হয়ে যায়।
  • সময় বেড়ে যাওয়া (Gravitational Time Dilation): পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উঁচুতে মাধ্যাকর্ষণ বল ভূপৃষ্ঠের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম। সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদ অনুযায়ী, মাধ্যাকর্ষণ কমলে সময় দ্রুত চলে। এই কারণে তাঁর বয়স বেড়েছে ০.০১৪৩ সেকেন্ড।

ফলাফল: এই দুটির বিয়োগফল করলে দেখা যায়, সামগ্রিকভাবে তাঁর বয়স প্রায় ৬.৫৮ মিলিসেকেন্ড বেড়ে গেছে।

বাস্তবে এই পরিবর্তন কতটা দৃশ্যমান?

সুনীতা উইলিয়ামসের বয়স বেড়ে যাওয়াটা হয়তো তাঁর চেহারায় ধরা পড়বে না, কিন্তু ধরা পড়বে ঘড়ির কাঁটায়। নয় মাস আগে স্টারলাইনার মিশনে যাওয়ার সময় তাঁর হাতের ঘড়ি এবং বাড়ির দেওয়াল ঘড়ি যদি হুবহু এক থাকে, তবে ঘরে ফেরার পর তিনি দেখবেন তাঁর হাতের ঘড়িটি দেওয়াল ঘড়ির চেয়ে সামান্য (মিলিসেকেন্ডের ভগ্নাংশ) এগিয়ে আছে।

মহাকাশ জীবনের মোট প্রভাব

সুনীতা তাঁর পুরো ক্যারিয়ারে বিভিন্ন মিশন মিলিয়ে মোট ৬০৬ দিন মহাকাশ কেন্দ্রে কাটিয়েছেন। সেই দীর্ঘ সময়ের হিসেবে তাঁর বয়স পৃথিবীর মানুষের চেয়ে আরও কয়েক মিলিসেকেন্ড বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের অজান্তে মহাবিশ্বের এই মহাজাগতিক নিয়মগুলো এভাবেই কাজ করে চলেছে!

24 Feb 2025

কেপলার থেকে মার্ক্স: মহাকাশ বিজ্ঞান ও চিন্তা জগতের বিবর্তন

কেপলারের পর্যবেক্ষণভিত্তিক গ্রহগতির সূত্র

কেপলার যখন সূর্যের চারপাশে গ্রহগুলির গতি, কক্ষপথ এবং কক্ষপথের সময় নির্ধারণ করেছিলেন, তখন মহাকর্ষীয় বলের কোনও ধারণা ছিল না। কেপলারের সূত্রগুলি ছিল সম্পূর্ণ পর্যবেক্ষণভিত্তিক — অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে আকাশ পর্যবেক্ষণ করে তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন।

হাবল স্পেস টেলিস্কোপে তোলা মহাজাগতিক গ্যাস ও ধুলোর স্তম্ভ — Pillars of Creation

ছবিঃ হাবল টেলিস্কোপের চোখে সৃষ্টির স্তম্ভ বা Pillars of Creation
Image Credit: NASA, ESA, and the Hubble Heritage Team

এই সূত্রগুলি বলে দেয়, গ্রহগুলি কীভাবে সূর্যের চারপাশে ঘোরে, কিন্তু কেন ঘোরে — সেই ব্যাখ্যা তখনও অনুপস্থিত ছিল।

নিউটনের মহাকর্ষীয় তত্ত্ব: গাণিতিক ব্যাখ্যা

কেপলারের অনেক পরে, গ্রহদের গতি এবং গতিপথ বিষয়ে আইজ্যাক নিউটন গাণিতিক ও তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দেন। নিউটনের মহাকর্ষীয় তত্ত্ব অনুযায়ী, মহাকর্ষীয় বল দুটি বস্তুর মধ্যে দূরত্ব এবং বস্তুর ভরের উপর নির্ভরশীল। তবে মহাশূন্যে মহাকর্ষীয় টান কীভাবে কাজ করে, তার কোনও ব্যাখ্যা তখনও ছিল না।

আইনস্টাইনের স্পেস-টাইম: মহাকর্ষের নতুন ব্যাখ্যা

নিউটনের মহাকর্ষীয় তত্ত্বের অনেক পর, আলবার্ট আইনস্টাইন নতুন তত্ত্ব দিয়ে বলেন, মহাকর্ষ আসলে স্পেস-টাইমের বিকৃতি। ভারী বস্তুর চারপাশে স্পেস-টাইম বিকৃত হয়, এবং এই বিকৃত স্পেস-টাইমের মধ্য দিয়ে অন্য বস্তু চললে তার গতিপথ পরিবর্তিত হয়।

কেপলারের জন্মের সাড়ে চারশো বছর পর আজও স্যাটেলাইটের কক্ষপথ এবং গতির বিশ্লেষণ করা হয় তাঁর সূত্রগুলির উপর ভিত্তি করেই।

গ্রহের কক্ষপথ স্থির, চিন্তার জগৎ পরিবর্তনশীল

সূর্যের চারপাশে গ্রহদের আবর্তনে কোনও পরিবর্তন হয়নি, কিন্তু চিন্তার জগতে পরিবর্তন হয়েছে। চিন্তার জগতে যে ক্রমাগত পরিবর্তন হয় তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন আরেক সমাজবিজ্ঞানী, কার্ল মার্ক্স। বিকাশের ভিত্তিতে চিন্তার পরিবর্তন ঘটে।

বিজ্ঞানের আরও কিছু অবাক করা তথ্য জানতে পড়ুন:

কোয়ান্টাম জগত ও অনিশ্চয়তা নীতি

27 Dec 2022

রামানুজন ও ইনফিনিটির রহস্য: গণিতের এক জাদুকরী দুনিয়া

দৃষ্টিশক্তির একটা সীমানা আছে কিন্তু ভারতীয় গণিতবিদ শ্রীনিবাস রামানুজনের দৃষ্টিশক্তি ছিল সীমাহীন। তাই বলা হয় রামানুজন ইনফিনিটি দেখতে পারতেন। উদাহরণ দিয়ে বলা যাক।

(১)

১+২+৩+৪+......... এভাবে সংখ্যা যদি পরপর অসীমে বেড়ে যায় তাহলে যোগফল কত হতে পারে? ১ থেকে ১০০০ পর্যন্ত সংখ্যাগুলি যোগ করলেই পাঁচ লক্ষ পাঁচশ'র মত বড় সংখ্যা পাওয়া যায়!
সাধারণ ভাবে বোঝা যাছে সেই সিরিজের যোগফল অনেক অনেক বড় এবং তা যাইহোক না কেন, ধণাত্মক হবে কারণ এই সিরিজে কোনও ঋণাত্মক সংখ্যাই নেই।
রামানুজন প্রমাণ করে দেখালেন, সিরিজটির শেষ ইনফিনিটে হলেও যোগফল ঋণাত্মক এবং কাছেপিঠের একটা সংখ্যা তাও কোনও পূর্ণ সংখ্যা নয় এবং একের থেকেও কম। মাত্র -১/১২!

(২)

রামানুজন মাত্র বত্রিশ বছর বয়সে মারা যান। ইংল্যান্ডে থাকাকালীন স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে। বাড়িতে ফিরে খুবই অসুস্থ অবস্থায় মারা যাওয়ার মাস তিনেক আগে ১৯২০ সালের তাঁর বন্ধু এবং বিখ্যাত গণিতজ্ঞ অধ্যাপক গডফ্রি হ্যারল্ড হার্ডিকে একটা চিঠি লেখেন।
"আমি তোমাকে চিঠি দিতে না পারার জন্য অত্যন্ত দুঃখিত...আমি সম্প্রতি খুব আকর্ষণীয় একটি ফাংশন আবিষ্কার করেছি যাকে আমি "মক" থিটা ফাংশন বলি...এগুলি সাধারণ থিটা ফাংশনের মতোই সুন্দরভাবে প্রকাশ করা যায়। আমি এই চিঠির সাথে আপনাকে কিছু উদাহরণ পাঠাচ্ছি.....।"
রামানুজন সতেরটা উদাহরণ পাঠিয়েছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় লেখা চিঠিতে উল্লিখিত এই সিরিজের উত্তর ছিল কিন্তু কোনও সমাধান ছিল না। দীর্ঘদিন এই গাণিতিক সমস্যাকে রামানুজনের 'ডেডবেড পাজল' নামে বিখ্যাত হয়ে আছে।

(৩)

রামানুজনের মৃত্যুর ৭০ বছর পর, ২০০২ সালে, একজন ডাচ গণিতবিদ স্যান্ডার পি. জুয়েগার্স এই পাজলটি সমাধান করতে সমর্থ হন। শুনেছি, রামানুজনের এই গাণিতিক সিরিজ পদার্থ বিজ্ঞানের বিশেষভাবে কসমোলজির বিভিন্ন গাণিতিক সমীকরণ সমাধানে কাজে লেগেছে।

Srinivasa Ramanujan - A Genius Indian Mathematician, Who Knew Infinity
চিত্রঃ শ্রীনিবাস রামানুজন (২২ ডিসেম্বর ১৮৮৭ – ২৬ এপ্রিল ১৯২০) 
আমার তো কোনও দিন অঙ্ক ভালো লাগেনি কিন্তু যতটুকু শিখতে পেরছি মনে হয়েছে, অঙ্ক হল ম্যাজিক। গণিতের দুটি বিষয় খুবই চমকপ্রদ - ফুরিয়ার সিরিজ আর ল্যাপলাস ট্রান্সফর্ম। আমার সীমিত ধারণায় গণিতের এই দুটি শাখা প্রকৃতির মধ্যে ছন্দ খুঁজে দেয়।

(৪)

মহা শূণ্য মানে সব শূণ্য নয়। দুটি সমান সংখ্যাকে একে অপরের থেকে বাদ দিলে যেমন শূণ্য তেমন নির্দিষ্ট ছন্দের দুটি তরঙ্গকে একে অপরের থেকে বাদ দিলেও শূণ্য। দেখতে বিছরি, বেতাল কোনও ঘটনাকে সুন্দর আন্দোলিত ঘটনার সমাহার দিয়ে প্রকাশ করা যায়। যা একমাত্র গণিতই পারে।

পড়ুনঃ

(১) মার্ক্সের গণিত: দর্শন ও ক্যালকুলাসের এক নতুন দ্বান্দ্বিক দৃষ্টি

Featured post

National Green Hydrogen Mission India: লক্ষ্য, প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ

ভারতের National Green Hydrogen Mission কী, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ, এবং কীভাবে এটি ভারতকে একটি Global Green Hydrogen Hub বানাতে পারে - ...

পপুলার পোস্ট