Showing posts with label Social Science. Show all posts
Showing posts with label Social Science. Show all posts

29 Jan 2026

২০২৫ সালে ভারতের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি: সৌর ও বায়ুশক্তিতে রেকর্ড উৎপাদন

২০২৫ সালে ভারতের রিনিউএবল এনার্জি সেক্টর আর শুধু “অলটারনেটিভ” নয়; এখন সেটা দেশের পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেম-এর অন্যতম অংশীদার। সোলার, উইন্ড, বায়োমাস, স্মল হাইড্রো - সব মিলিয়ে গ্রিডে ক্লিন ইলেকট্রিসিটি যোগ করার পরিমাণ আগের যেকোনও বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সংস্থাপিত ক্ষমতা (Installed Capacity) পৌঁছেছে প্রায় ৫০৫,০২৩ মেগাওয়াটে (MW), যার মধ্যে অ-জীবাশ্ম জ্বালানি (Non-fossil Fuel) ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট ক্ষমতা ২৫৯,৪২৩ মেগাওয়াট

Solar and wind energy leading India's green transition

রেকর্ড ব্রেকিং পরিসংখ্যান: ২৯ জুলাই, ২০২৫

ভারতের ইতিহাসে এক অনন্য নজির সৃষ্টি হয় ২০২৫ সালের ২৯শে জুলাই। ওইদিন দেশের মোট ২০৩ গিগাওয়াট (GW) পিক ডিমান্ড বা সর্বোচ্চ চাহিদার ৫১.৫ শতাংশই মেটানো হয়েছে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির মাধ্যমে। এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রেকর্ড ২৯.৫৩ গিগাওয়াট (GW) নতুন পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।


২০২৫ সালের মাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন চিত্র (MU)

মাস বায়ুশক্তি (Wind) সৌরশক্তি (Solar) অন্যান্য* মোট (Excl. Hydro)
জানুয়ারি৪,০৭৫.১২৯,০০৮.৪৭২,৯৭৯.৮০১৬,০৬৩.৩৯
ফেব্রুয়ারি৪,৯০৭.৫৮১০,৪২১.২২২,৬৭০.০৬১৭,৯৯৮.৬৪
মার্চ৫,১৩৩.৬৩১৬,৮১১.৩৮২,১৯৬.২৬২৪,১৪১.২৭
এপ্রিল৬,৩৩০.৭১১৫,৮১১.৮২১,৭০৩.৫৫২৩,৮৪৬.০৮
মে৮,২৫৭.৬৩১২,৬৪৫.৯৯১,৫৯৭.৯৪২২,৫০১.৫৬
জুন১০,১৩৪.৯২১১,৪৪৫.৬৬১,৪৭১.৬৯২৩,০৫২.২৭
জুলাই (Max)১৩,৬২৭.০০১০,৩৫৬.৩৫১,৯৮৪.৬১২৫,৯৬৭.৯৬
আগস্ট১০,২৬৮.৮৮১০,১৫৭.৫২২,২৭৮.৮৪২২,৭০৫.২৪
সেপ্টেম্বর৮,৮৭০.৬২১১,৩০২.৬২২,২২২.৮১২২,৩৯৬.০৫
অক্টোবর৩,২৩৮.২৮১২,২৫৬.৬১২,২০৭.৪৮১৭,৭০২.৩৭
নভেম্বর৩,১০৯.৩৩১১,২৪৬.৫২২,৩৯৯.৪১১৬,৭৫৫.২৬
ডিসেম্বর৫,০০৯.০৬১৪,৯৪৬.৮৩৩,৩৭৫.৫০২৩,৩৩১.৩৯
বার্ষিক মোট ৯০,৮৭১.২৩ ১,৫০,৭৫০.৭৫ ২৬,৮৩৬.৫ ২,৫২,৪৫৮.৫

*অন্যান্য: বায়োমাস, বাগাস ও ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ উৎস অন্তর্ভুক্ত।

২০২৫ সালের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনের গ্রাফ

Renewable Energy Generation Statistics 2025

২০৩০ সালের লক্ষ্যের পথে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

  1. ব্যাটারি স্টোরেজ: সৌর ও বায়ুশক্তির অস্থিতিশীলতা কাটাতে এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (Battery Storage & Pumped Hydro) বাড়ানো।
  2. গ্রিড ট্রান্সমিশন: আন্তঃরাজ্য ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার আরও শক্তিশালী করা।
  3. পিএম সূর্য ঘর যোজনা: এই প্রকল্পের মাধ্যমে রুফটপ সোলারকে আরও প্রান্তিক পর্যায়ে জনপ্রিয় করা।

উপসংহার

২০২৫ সালের এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেয় যে, ভারত এখন শক্তি স্বনির্ভরতার পথে। সৌর ও বায়ুশক্তির এই রেকর্ড উৎপাদন কেবল পরিবেশ রক্ষা করছে না, বরং নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ নিশ্চিত করবে।

23 Jan 2026

জাতীয়তাবাদ, ফ্যাসিবাদ ও নেতাজি: ইতিহাসের নিরিখে মূল্যায়ন

১. উগ্র জাতীয়তাবাদ ও ফ্যাসিবাদের উত্থান

উনিশ শতকের শেষভাগ ও বিশ শতকের গোড়ায় ইউরোপে জাতীয় রাষ্ট্রের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে এক বিশেষ ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শ গড়ে ওঠে যার নাম উগ্র জাতীয়তাবাদ। এই জাতীয়তাবাদ পুঁজিবাদী সম্প্রসারণের স্বার্থে ক্রমশ সাম্রাজ্যবাদী ও বর্ণবাদী রূপ নেয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অর্থনৈতিক বিপর্যয়, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই উগ্র জাতীয়তাবাদ থেকেই ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়। ইতালিতে মুসোলিনি এবং জার্মানিতে হিটলার তার ভয়াবহ উদাহরণ। জার্মানির ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি বা এনএসডিএপি নামের মধ্যে সোশ্যালিজম থাকলেও বাস্তবে তা সমাজতন্ত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত একটি চরম জাত্যাভিমানী, বর্ণবাদী ও সামরিকতান্ত্রিক দমনমূলক মতাদর্শ। এই তথাকথিত ন্যাশনাল সোশ্যালিজম ছিল কালো রঙের সাদা বেড়ালের মতো — নামে সমাজতন্ত্র হলেও কাজে ছিল ফ্যাসিবাদ।

20 Jan 2026

ভারতে সৌর-বিকিরণ কমছে: সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১.২১% হ্রাসের অশনি সংকেত

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সোলার ফটোভোলটাইক (SPV) পাওয়ার পোটেনশিয়াল মানচিত্র

সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে অশনি সংকেত: প্রতি বছর ১.২১% হারে কমছে উৎপাদন ক্ষমতা!

ভারতে সৌর শক্তিকে ভবিষ্যতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে ধরা হচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা জানাচ্ছে, বাস্তবতা কিছুটা জটিল; প্রকৃতি ও দূষণের যৌথ প্রভাবে ব্যবহারযোগ্য সৌর বিকিরণ (Solar Radiation) ক্রমশ কমছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (India Meteorological Department)-এর এক সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সোলার রেডিয়েশন ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে, যার ফলে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১.২১ শতাংশ হারে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

4 Jan 2026

মার্কিন আগ্রাসন ও ভেনিজুয়েলা: পুঁজিবাদের সংকটের রাজনৈতিক রূপরেখা

সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদের সংকট ও ভেনিজুয়েলা: কেন এই আগ্রাসন বিচ্ছিন্ন নয়

ভূমিকা

সাম্রাজ্যবাদ হলো একটি শক্তিশালী দেশ বা জাতির অন্য দুর্বল দেশ বা অঞ্চলের উপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তারের নীতি। এই আধিপত্য বিস্তারের কাজটি করা হয় অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক বা সামরিক প্রভাব খাটিয়ে। সাম্রাজ্যবাদের মূল লক্ষ্যই সম্পদ ও বাজারের দখল বা নিয়ন্ত্রণ এবং নিজেকে আরও শক্তিশালী করে তোলা। ভেনিজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসন তার সর্বশেষ উদাহরণ মাত্র।

সাম্রাজ্যবাদ কী এবং কেন এটি পুঁজিবাদের চূড়ান্ত রূপ

সাম্রাজ্যবাদ বলতে বোঝায় একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের দ্বারা অন্য দুর্বল রাষ্ট্রের উপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া। সাম্রাজ্যবাদ যেভাবে কাজ করে:

  • অর্থনৈতিক চাপ ও ঋণের ফাঁদ
  • কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ
  • প্রয়োজনে সরাসরি সামরিক আগ্রাসন

লেনিনের বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে, সাম্রাজ্যবাদ হলো পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ ও সংকটপূর্ণ স্তর। মুনাফার স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হলে দখল ও লুটই হয়ে ওঠে শেষ ভরসা।

ভেনিজুয়েলায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও পুঁজিবাদের সংকট নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

সভ্যতার ভাষা, ভেতরে দখলদারির রাজনীতি

সাম্রাজ্যবাদ নিজেকে মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও সভ্যতার রক্ষকর্তা হিসেবে তুলে ধরে। কিন্তু এই ভাষার আড়ালে থাকে সম্পদ দখল ও ভূ-রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের নীতি। ভেনিজুয়েলায় “অস্ত্র”, “মাদক” বা “গণতন্ত্র রক্ষা” আসলে রাজনৈতিক আড়াল। দেশটি খনিজ ও জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ এবং স্বাধীন অর্থনৈতিক নীতি অনুসরণ করছে, যা সাম্রাজ্যবাদের জন্য অগ্রহণযোগ্য।

আমেরিকার সংকট: এটি কেবল ঋণের হিসাব নয়

  • যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের সর্বোচ্চ ঋণের বোঝা বহন করছে।
  • গড়ে প্রতিটি নাগরিকের মাথাপিছু ঋণ ১ লক্ষ ২৫ হাজার ডলারের বেশি।
  • মোট ঋণ ভারতের প্রায় ৬–৭ বছরের বাজেটের সমান।
  • সুদের বোঝা রাষ্ট্রীয় সংকটে পরিণত হয়েছে।

একমেরু বিশ্বের অবসান ও বহুমেরু বাস্তবতা

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর বিশ্ব দীর্ঘদিন একমেরু ছিল। আজ সেই বাস্তবতা বদলেছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিবর্তনগুলো হলো:

  • চীনের প্রযুক্তি ও শিল্পে উত্থান।
  • বিশ্ববাজারে একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান।
  • ট্যারিফ যুদ্ধের মাধ্যমে মার্কিন বাজার রক্ষার চেষ্টা।

ডলারের একাধিপত্যে ফাটল

ডলার দীর্ঘদিন বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। কিন্তু চীন, রাশিয়া, ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকা বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা ও নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্যের পথে এগোচ্ছে। এই পরিবর্তন সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ।

ভেনিজুয়েলা একা নয়

ভেনিজুয়েলা, ইরাক, লিবিয়া, ইরানে আমেরিকার সামরিক আগ্রাসন কোনো বিচ্ছিন্ন যুদ্ধ নয়। এগুলো হলো আমেরিকার নিজস্ব পুঁজিবাদী সংকট ঢাকার ধারাবাহিক সাম্রাজ্যবাদী পদক্ষেপ

বামপন্থী অবস্থান ও আন্তর্জাতিক সংহতি

বামপন্থীরা ঐতিহাসিকভাবেই সাম্রাজ্যবাদের বিরোধী। এই ধারাবাহিকতায় ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) ভেনিজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল করেছে।

উপসংহার

সাম্রাজ্যবাদ যতই ভাষা ও মুখোশ বদলাক, তার মৌলিক চরিত্র বদলায় না। ভেনিজুয়েলা সেই বৃহত্তর পুঁজিবাদী সংকটেরই প্রকাশ।

ডিসক্লেইমার: এই লেখা লেখকের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও মতামতের উপর ভিত্তি করে। এর উদ্দেশ্য কোনো ঘৃণা বা সহিংসতা উসকে দেওয়া নয়।

পড়ুন: ২০২৬-এর নতুন সকাল: উৎসবের আলো আর লড়াইয়ের অন্ধকার

25 Dec 2025

মার্ক্সের গণিত: দর্শন ও ক্যালকুলাসের এক নতুন দ্বান্দ্বিক পাঠ

Karl Marx Mathematical Manuscripts and Calculus explanation in Bengali

মার্ক্সের গণিত: দর্শন ও ক্যালকুলাসের এক নতুন দৃষ্টি

“গতকাল আমি কোনো রেফারেন্স ছাড়াই তোমার গাণিতিক পাণ্ডুলিপিটি পড়ার সাহস পেয়েছি। বুঝতে পেরে ভালো লাগছে যে তাদের (রেফারেন্সে) কোনো প্রয়োজন নেই। তোমার কাজের প্রশংসা করছি। ব্যাপারটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হচ্ছে যে, একে রহস্যময় করে তুলতে গণিতবিদরা বিষয়টিকে কত জটিল করে তোলেন; তাতে আমরা যথেষ্ট আশ্চর্য না হয়ে পারি না। কিন্তু এসব ভদ্রলোকদের একতরফা ধারণা থেকেই আসে। $dy/dx = 0/0$ তাঁদের মাথায়ই ঢোকে না।”

3 Apr 2025

ভারতের নতুন শ্রমকোড ২০২৫: অধিকার সংকোচন বনাম পুঁজির বিকাশ

নতুন শ্রম কোড ২০২৫: অধিকারের লড়াই বনাম পুঁজির স্বার্থ

শ্রম ও মূল্য: বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গিতে অর্থনীতি

নিউটনের প্রথম সূত্রের মতোই বলা যায়, বাইরে থেকে শ্রমশক্তি প্রয়োগ না করলে বস্তুতে মূল্য যুক্ত হয় না। তুলা সংগ্রহ থেকে কাপড় তৈরি – এই পুরো প্রক্রিয়ায় শ্রম যুক্ত না হলে সুতো ও বস্ত্র তৈরির কথা কল্পনামাত্র।

উৎপাদনের জন্য চাই বিনিয়োগ। সরকার নিজে বিনিয়োগ করবে না, বরং ব্যক্তিমালিকানাধীন পুঁজিকে উৎসাহিত করে। আর পাঁচটি প্রয়োজনীয় শর্তের মধ্যে বিনিয়োগকারী শ্রমবাজারের অবস্থা যাচাই করে নেয়।

বিনিয়োগের রাজনীতি ও মজুরির দ্বন্দ্ব

বিনিয়োগকারী চায় কম বেতন ও কম সুযোগ-সুবিধার শ্রমিক-কর্মচারী। শ্রমিক-কর্মচারীরা ঠিক উল্টোটাই চায়। এই দরকষাকষি চলতেই থাকে।

বাস্তব ঘটনা হলো, উৎপাদন শিল্পের পুরো লাভ হলো শ্রমিক-কর্মচারীদের না দেওয়া মজুরি। সরকারের স্বার্থ হলো, যত লাভ তত ট্যাক্স।

শিল্পমালিক ও শ্রমিক-কর্মচারীদের সুবিধা আদায়ের দরকষাকষি বা লড়াই চলমান প্রক্রিয়া। সরকার তৃতীয়পক্ষ হিসেবে হস্তক্ষেপ করে কিছু সুযোগ-সুবিধা দিয়ে – মালিকের কথাও রইল, শ্রমিক-কর্মচারীদের কথাও রইল, আর মাঝখানে সরকারি রাজস্ব আদায়েও একটা মোটামুটি অবস্থা বজায় রইল।

শ্রম আইনের বিবর্তন ও নতুন 'শ্রম কোড ২০২৫'

স্বাধীনতার আগে ও পরে শ্রমজীবী মানুষের দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে বারবার শ্রম আইন সংশোধন বা পরিবর্তন হয়েছে। ২০১৯-২০ সালে কেন্দ্রীয় সরকার 'শ্রমক্ষেত্র সংস্কার'-এর নামে ৪৪টি কেন্দ্রীয় শ্রম আইনের মধ্যে ১৫টিকে ‘বর্তমান সময়ের পক্ষে অপ্রাসঙ্গিক’ চিহ্নিত করে বাতিল করে, বাকি ২৯টি আইনের সুযোগ-সুবিধা কাটছাঁট করে চারটি শ্রমকোড আইন তৈরি করেছে। এই আইন কার্যকর হচ্ছে আজ থেকে, অর্থাৎ ১লা এপ্রিল ২০২৫।

লক্ষ্য করার বিষয় হলো, শ্রমকোড আইন চালু হওয়ার আগে পর্যন্ত দেশের বলবৎ শ্রম আইনের পেছনে ছিল শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের বিজয়। নতুন আইনে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার সঙ্কুচিত করে কেন্দ্রীয় সরকার এই লড়াইকে আরও তীব্র করে দিয়েছে।

কেন এই নতুন আইন বিতর্কিত?

এই আইনের পেছনে রয়েছে 'এক ঢিলে দুই পাখি মারা'র মতো বিপজ্জনক কৌশল:

১. শ্রমিক আন্দোলন দুর্বল করা: সংগঠিত শ্রমিক আন্দোলনকে দুর্বল করে সম্মিলিত দরকষাকষির ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া। ২. পুঁজির স্বার্থ রক্ষা: ৫ ট্রিলিয়ন ইকোনমির লক্ষ্যে শ্রমবাজারকে নমনীয় করে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।

প্রতিরোধের পথে শ্রমজীবী মানুষ

শ্রমজীবী মানুষের লড়াই আরও তীব্র হলো। ২০শে এপ্রিল, ২০২৫ এই রাজ্যের শ্রমজীবী মানুষ ব্রিগেডে সমবেত হবেন। এক মাস পরেই গোটা দেশে হরতাল ও ধর্মঘটের প্রস্তুতি চলছে। শোনা যাচ্ছে, দেশব্যাপী এই শ্রমকোড-বিরোধী আন্দোলনকে আরও তীব্র করে লাগাতার ধর্মঘটের দিকেও যেতে পারে।

শেষ কথা

এই শ্রম কোড আইনের প্রভাবে কেবল নিম্নবিত্ত নয়, বরং সমাজের সুবিধাভোগী শ্রেণি বা মধ্যবিত্তরাও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই এই লড়াই আজ কেবল শ্রমিকের নয়, বরং একটি সুস্থ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে সবার সম্মিলিত লড়াই।

Featured post

National Green Hydrogen Mission India: লক্ষ্য, প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ

ভারতের National Green Hydrogen Mission কী, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ, এবং কীভাবে এটি ভারতকে একটি Global Green Hydrogen Hub বানাতে পারে - ...

পপুলার পোস্ট