১. উগ্র জাতীয়তাবাদ ও ফ্যাসিবাদের উত্থান
উনিশ শতকের শেষভাগ ও বিশ শতকের গোড়ায় ইউরোপে জাতীয় রাষ্ট্রের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে এক বিশেষ ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শ গড়ে ওঠে যার নাম উগ্র জাতীয়তাবাদ। এই জাতীয়তাবাদ পুঁজিবাদী সম্প্রসারণের স্বার্থে ক্রমশ সাম্রাজ্যবাদী ও বর্ণবাদী রূপ নেয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অর্থনৈতিক বিপর্যয়, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই উগ্র জাতীয়তাবাদ থেকেই ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়। ইতালিতে মুসোলিনি এবং জার্মানিতে হিটলার তার ভয়াবহ উদাহরণ। জার্মানির ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি বা এনএসডিএপি নামের মধ্যে সোশ্যালিজম থাকলেও বাস্তবে তা সমাজতন্ত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত একটি চরম জাত্যাভিমানী, বর্ণবাদী ও সামরিকতান্ত্রিক দমনমূলক মতাদর্শ। এই তথাকথিত ন্যাশনাল সোশ্যালিজম ছিল কালো রঙের সাদা বেড়ালের মতো — নামে সমাজতন্ত্র হলেও কাজে ছিল ফ্যাসিবাদ।
২. সমাজতান্ত্রিক বিকল্প ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাঠামোর মধ্যে একটি সমাজতান্ত্রিক বিকল্প হাজির করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ, শ্রমিক আন্দোলন এবং কমিউনিস্ট শক্তিগুলি সোভিয়েত ইউনিয়নের পাশে দাঁড়ায়। এই সমর্থন রুশ জাতীয়তাবাদকে নয় বরং এই সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী অর্জনকে রক্ষা করার জন্য ছিল। সেই সময়ের স্লোগান ছিল বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক। এই যুদ্ধ দ্রুতই এক নৈতিক সংগ্রামে পরিণত হয় যেখানে একদিকে ছিল ফ্যাসিবাদ ও বর্ণবাদী সাম্রাজ্যবাদ আর অন্যদিকে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের সম্মিলিত প্রতিরোধ।
৩. জাপানি সাম্রাজ্যবাদ ও এশিয়ায় আগ্রাসন
এই একই সময়ে এশিয়ায় জাপান দ্রুত শিল্পায়নের পথে এগোয় এবং ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির মতোই উপনিবেশ, বাজার ও কাঁচামালের সন্ধানে আগ্রাসী হয়ে ওঠে। ১৮৯৫ সালে চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ১৯১০ সালে কোরিয়া দখল, ১৯৩১ সালে মাঞ্চুরিয়া দখল এবং ১৯৩৭ সালে চীনের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এই ধারাবাহিকতা থেকেই স্পষ্ট যে জাপানের লক্ষ্য ছিল সাম্রাজ্য বিস্তার। বৃহত্তর পূর্ব এশিয়া সহ সমৃদ্ধি গোলক-এর নামে জাপান আসলে এক জঙ্গি সম্প্রসারণবাদী কর্মসূচি গ্রহণ করে যার বাস্তব রূপ ছিল দখলদারি, লুণ্ঠন ও গণহত্যা — বিশেষ করে সাংহাই ও নানকিংয়ে সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ তার জ্বলন্ত উদাহরণ।
৪. রবীন্দ্রনাথের জাতীয়তাবাদ বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি
এই উগ্র জাতীয়তাবাদের বিপরীতে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জাতীয়তাবাদকে দেখেছিলেন সভ্যতার জন্য এক গভীর বিপদ হিসেবে। তাঁর মতে পাশ্চাত্য জাতীয়তাবাদ ছিল মূলত একটি রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক যন্ত্র যার লক্ষ্য ছিল ক্ষমতা ও মুনাফার জন্য অন্য জাতিকে শোষণ করা। তিনি স্পষ্ট বুঝেছিলেন যে পুঁজিবাদের ভেতর থেকেই সাম্রাজ্যবাদ জন্ম নেয় আর সেই সাম্রাজ্যবাদ নিজ দেশের শ্রমিকের পাশাপাশি অন্য দেশের মানুষকেও শোষণের শৃঙ্খলে বেঁধে ফেলে। এই কারণেই রবীন্দ্রনাথ জাতীয়তাবাদকে মানবতার চেয়ে রাষ্ট্রকে বড় করে তোলার এক বিপজ্জনক প্রবণতা হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।
৫. সুভাষচন্দ্র বসু ও অক্ষশক্তির সঙ্গে মিত্রতা
সুভাষচন্দ্র বসু কমিউনিস্ট ছিলেন না কিন্তু ভারতের স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন। কংগ্রেসের ভেতরে গান্ধী-নেহরু নেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্যের পর তিনি বিশ্বাস করেন যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে পরাস্ত করার জন্য আন্তর্জাতিক শক্তিসমীকরণ ব্যবহার করা জরুরি। এই ধারণা থেকেই তিনি প্রথমে জার্মানির সহায়তা প্রত্যাশা করেন। ১৯৪১ সালে বসু গোপনে ভারত ত্যাগ করে জার্মানিতে পৌঁছান এবং নাৎসি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। ১৯৪২ সালে তিনি বার্লিনের রাইখ চ্যান্সেলারিতে অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং একই সময়ে হিমলারের মতো ব্যক্তিদের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে যারা ইহুদিদের উপর ভয়াবহ নিপীড়নের প্রধান স্থপতি ছিলেন।
কিন্তু এই সাক্ষাতের আগেই ১৯৪১ সালের জুনে জার্মানি সোভিয়েত অনাক্রমণ চুক্তি ভেঙে অপারেশন বারবারোসা শুরু করে। ততদিনে লক্ষ লক্ষ কমিউনিস্ট, ইহুদি ও রাজনৈতিক বিরোধীদের হত্যা করা হয়েছে যার খবর গোটা বিশ্বেই জানা ছিল। এই প্রেক্ষাপটে নাৎসি জার্মানির সঙ্গে বসুর ঘনিষ্ঠতা ইতিহাসগতভাবে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়। ১৯৪৩ সালে জাপানের সহায়তায় বসু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গিয়ে আজাদ হিন্দ ফৌজ বা আইএনএ পুনর্গঠন করেন। এই বাহিনী অস্ত্র ও রসদের জন্য সম্পূর্ণভাবে জাপানিদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। ফলে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে জাপানিদের ভয়াবহ নির্যাতনের বিরুদ্ধে বসু কোনো কার্যকর প্রতিবাদ জানাতে পারেননি।
৬. হলোকাস্ট প্রসঙ্গ ও বসু পরিবারের পরবর্তী অবস্থান
এই বিতর্কিত ইতিহাসের প্রেক্ষিতে কয়েক বছর আগে নিউইয়র্ক, বোস্টন, ব্রাসেলস ও বার্লিনের চারটি ইহুদি সংগঠনের কাছে শরৎচন্দ্র বসুর কন্যা শর্মিলা বসু নেতাজির হয়ে একটি খোলা চিঠিতে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। চিঠির অংশবিশেষ:
“I respectfully convey, to Jewish people, other victims of the Holocaust, and their loved ones, my sincere apology and profound remorse for the failure of my great uncle, the Indian nationalist leader Subhas Chandra Bose, to acknowledge and condemn the persecution and extermination of Jews, other minority groups, disabled people and political opponents, by Nazi Germany.”
তবে সেই চিঠিতে আন্দামানসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জাপানিদের বর্বর আগ্রাসনের প্রসঙ্গ অনুল্লেখিত ছিল। পরবর্তীকালে বসু পরিবারের কিছু সদস্য যেমন শিশির বসুর স্ত্রী ও পুত্র চন্দ্র বসু বিজেপি বা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁদের ভূমিকা ও অবস্থান অনেক ক্ষেত্রেই বিতর্কিত ও সমালোচিত হয়েছে যা নেতাজির ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে নতুন প্রশ্ন তোলে।
৭. কৃষ্ণা বসু ও সমকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতা
১৯৯৯ সালে কৃষ্ণা বসু তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে লোকসভায় নির্বাচিত হন যখন তারা বাজপেয়ীর এনডিএ সরকারের শরিক। ২০০২ সালে গুজরাটে ভয়াবহ গণহত্যা সংঘটিত হলে কৃষ্ণা বসু তাঁর বইয়ে লিখেছিলেন যে গুজরাট দাঙ্গা তাঁর সামনে এক ব্যক্তিগত সংকট তৈরি করে দিয়েছিল। তিনি মমতার দ্বিচারিতায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন এবং স্বীকার করেছিলেন যে সেই সময় সাংসদ পদ ছেড়ে আসাই তাঁর উচিত ছিল। এই আত্মসমালোচনামূলক স্বীকারোক্তি সমকালীন রাজনীতির নৈতিক অবস্থান ও ক্ষমতার কৌশলের দ্বন্দ্বকে নগ্নভাবে প্রকাশ করে।
৮. মৌলিক প্রশ্ন: অক্ষশক্তি জিতলে ভারতের ভবিষ্যৎ কী হতো?
ইতিহাস ভবিষ্যৎ বলে না কিন্তু সম্ভাবনার কাঠামো বুঝতে শেখায়। জাপান যদি ব্রিটিশদের পরাজিত করত তবে তারা ভারতকে স্বাধীনতা দিত — এই ধারণার কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। কোরিয়া, মাঞ্চুরিয়া বা ভিয়েতনামের অভিজ্ঞতা বলে জাপানের আচরণ ছিল দমনমূলক। “শত্রুর শত্রুই বন্ধু” এই নীতিটি বাস্তব রাজনীতিতে সর্বজনীনভাবে প্রযোজ্য নয়। জাপানের সাম্রাজ্যবাদী চরিত্র ভারতকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয় বরং তাদের সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার অংশে পরিণত করত।
শেষকথা
জাতীয়তাবাদ নিজে কোনো স্বয়ংক্রিয় মুক্তিদায়ী শক্তি নয়। ইতিহাস দেখিয়েছে যে জাতীয়তাবাদ যখন মানবমুক্তির প্রকল্প থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাষ্ট্রীয় শক্তি ও সামরিক আধিপত্যের হাতিয়ারে পরিণত হয় তখন তা অবশ্যম্ভাবীভাবে ফ্যাসিবাদের দিকে গড়িয়ে পড়ে। সুভাষচন্দ্র বসুর ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রাম নিঃসন্দেহে সাহসী ছিল কিন্তু সেই সংগ্রাম ফ্যাসিস্ট শক্তির সঙ্গে জোট বাঁধার মধ্য দিয়ে যে নৈতিক সংকটে পড়ে তা পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি। পরিশেষে নেতাজির সেই বিখ্যাত উক্তিটিতে একটা দ্বন্দ্ব থেকেই যায়: “আমাদের মনে রাখা উচিত যে এক সর্বশ্রেষ্ঠ অপরাধ হল অন্যায় ও অন্যায়ের সাথে আপস করা।”
টীকা ১: রবীন্দ্রনাথ ও আজকের বিশ্ব
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯১৬ সালের Nationalism বক্তৃতামালা থেকে নেওয়া এই অংশটি আজও আমাদের জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা। তিনি ‘জাতীয়তাবাদ’ (Nationalism) এবং ‘দেশপ্রেম’ (Patriotism)-কে এক করে দেখেননি।
- যন্ত্র বনাম আত্মা: রবীন্দ্রনাথের মতে, জাতীয়তাবাদ হলো একটি যান্ত্রিক সংগঠন (Mechanical Organization), যা কেবল ক্ষমতা ও মুনাফার লোভে মানুষকে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন করে। কারণ এটি স্রেফ মানচিত্রের একটি কৃত্রিম রেখাকে কেন্দ্র করে অন্য মানুষের ওপর ঘৃণা ও আধিপত্য ছড়াতে শেখায়।
- ইতিহাসের শিক্ষা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে রবীন্দ্রনাথ জাপানে দাঁড়িয়ে যখন তাদের সতর্ক করেছিলেন, তারা তা শোনেনি। কিন্তু পরবর্তীতে হিরোশিমা-নাগাসাকির ধ্বংসলীলা প্রমাণ করেছে যে রবীন্দ্রনাথের আশঙ্কা কতটা সত্য ছিল।
- সুভাষচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথের দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক: সুভাষচন্দ্র বসু মনে করেছিলেন পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে এই ‘যন্ত্র’ বা জাতীয়তাবাদী শক্তির সামরিক ব্যবহার প্রয়োজন। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথের ভয় ছিল, সেই উগ্র শক্তির সাহচর্যে যদি স্বাধীনতা আসে, তবে তা শেষ পর্যন্ত মানুষের আত্মিক মুক্তি ঘটাতে পারবে না।
টীকা ২: আন্দামান ডায়েরি ও জাপানি নৃশংসতার অকথ্য ইতিহাস
১৯৪২ সালের ১৩ই মার্চ জাপানিরা আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ দখল করে। এর প্রায় ন’মাস পর, ১৯৪৩ সালের ২৯শে ডিসেম্বর সুভাষচন্দ্র বসু এই দ্বীপে পা রাখেন। ৩০শে ডিসেম্বর পোর্ট ব্লেয়ারের জিমখানা মাঠে তিনি ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং দ্বীপ দুটির নতুন নামকরণ করেন ‘শহীদ’ ও ‘স্বরাজ’। কিন্তু এই আনুষ্ঠানিকতার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক ভয়াবহ বাস্তবতা।
- সেলুলার জেল ও নেতাজি: সুভাষচন্দ্র বসু সেলুলার জেল পরিদর্শন করলেও সেখানে বন্দী ভারতীয়দের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি, অথবা জাপানি কর্তৃপক্ষ তাঁকে দেখা করতে দেয়নি। ৩১শে ডিসেম্বর তিনি ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লিগের সভায় দ্বীপপুঞ্জের প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার কথা বললেও, বাস্তবে শাসনক্ষমতা থেকে যায় জাপানি সামরিক বাহিনীর হাতেই।
- ডা. দিওয়ান সিং কালেপানির আত্মত্যাগ: জাপানি শাসনের নির্মমতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ ডা. দিওয়ান সিং কালেপানি। তিনি ছিলেন আজাদ হিন্দ ফৌজের একজন নিবেদিতপ্রাণ ডাক্তার এবং পোর্ট ব্লেয়ারের ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লিগের সভাপতি। জাপানি সেনারা তাঁকেই গুপ্তচরবৃত্তির মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করে এবং টানা ৮২ দিন অবর্ণনীয় নির্যাতনের পর ১৯৪৪ সালের ১৪ই জানুয়ারি সেলুলার জেলেই হত্যা করে।
- দুই হাজার ভারতীয়ের রক্ত: মহিন্দর সিং ধিলন (ডা. দিওয়ান সিংয়ের পুত্র) ১৯৯৮ সালে ‘দ্য ট্রিবিউন’ পত্রিকায় জানান যে, শুধু তাঁর পিতাই নন, প্রায় দুই হাজার ভারতীয় ওই সময় জাপানিদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। যখন ডা. দিওয়ান সিং জেলে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলেন, ঠিক তখনই নেতাজি সেই জেল পরিদর্শন করে আনুষ্ঠানিকতা সেরে ফিরে যান।
এই ঘটনাপ্রবাহ একটি ঐতিহাসিক প্রশ্নের জন্ম দেয় — জাপানি শাসনের এই বীভৎস নৃশংসতা কি সুভাষের অগোচরে ছিল, নাকি রাজনৈতিক ও সামরিক বাধ্যবাধকতা তাঁকে এই চরম ট্র্যাজেডির সামনে নীরব থাকতে বাধ্য করেছিল?
No comments:
Post a Comment