হুপু আর তিতলি
তিতলি হনুমানটির নাম দিয়েছিল, হুপু। খুব ছোট নয় আবার গোদাও নয়। খাঁকি রঙের লোমে মোড়া লম্বা লেজ আর কালো মুখের হুপুর কপালে জানলার চাঁজার মত লম্বা লোমের পরত। প্রতিদিন দুপুরে এবাড়ির ছাদ ও বাড়ির টালির চালা টপকে হুপু তিতলিদের পেয়ারা গাছে বা আমগাছে আয়েশি মেজাজে লেজ ঝুলিয়ে বসত।
কেউ কাছে গেলেই দাঁত বেড় করে এমন ভয় দেখাত যে দৌড়ে পালানো ছাড়া আর কোনও উপায় থাকত না।
(১)
তিতলির ব্যাপারটি আলাদা। ওর ঠাম্মা পইপই করে বলেছিল যাতে সে কখনও হুপুর ধারে কাছে না যায়। তিতলি অবিশ্যি হুপুকে ভয় পেত না। একদিন চুপিচুপি ছাদে গিয়ে দশ ফুট দূরে দাঁড়িয়ে সে বলে, "এই হুপু, হুপু, আমার কথা শুনছিস? আমার সাথে বন্ধুত্ব করবি? একটু বোস, কলা এনে দিচ্ছি।"
(২)
তিতলির মামা বলেছিল, হনুমানদের প্রাকৃতিক চারণভূমি নাকি আমরাই দখল করেছি তাই ওরা বাস্তুহারা। বেঁচে থাকতে খেতে হয় তাই হুপু'রা লোকালয়ে চলে আসে। হুপুরা উৎপাত করেনা বরং মানুষই ওদের বিপন্ন করেছে।
(৩)
একদিন স্কুল থেকে ফেরার সময়, হঠাৎ সবাই বলে, "পালাপাল্লা, হনুমানের পাল আসছে।" তিতলিও সময় নষ্ট করেনি কিন্তু রাস্তায় পড়ে থাকা একটা ইঁটে পা লেগে সে হুমড়ি খেয়ে পড়ল। সামনেই একটা হনুমান বসে তার দিকে তাকিয়ে আছে। তিতিলির মাথায় হঠাৎ হুপুর কথা মনে আসতেই, সে আপনা আপনি বলল, "হুপু?"
(৪)
কি আশ্চর্য! হনুমানটি এগিয়ে এসে তিতলির হাত ধরল কিন্তু সে একটুও ভয় পেলনা। তিতলি আশা করেছিল, হনুমানটি হয়তো বলবে, হ্যাঁ, আমিই, হুপু। কিন্তু তেমন কিছু ঘটল না। তবুও তিতলি নিশ্চিত, সে হুপুই। সজল চোখে তিতলি তাকিয়ে রইল হুপুর দিকে—বহু বছর আগে ছাদের প্যারাপেটে বসে থাকা হুপু যেন আজও তেমনই আছে!
তিতলি শুধু প্রাণীদের বন্ধুই নয়, সে কিন্তু একজন দারুণ গোয়েন্দাও!
No comments:
Post a Comment