4 Apr 2025

শবে বরাতে রসগোল্লা রহস্য: তিতলির গোয়েন্দাগিরি ও এক মজাদার সমাধান

রসগোল্লার সন্ধ্যা: তিতলির ছোট্ট গোয়েন্দাগিরি ও এক মিষ্টি রহস্য

প্রিয় পাঠক,
ঘরের ভেতরেই অনেক সময় জন্ম নেয় সবচেয়ে মজার রহস্য। এই গল্পটিও তেমনই। শবে বরাতের সন্ধ্যায় হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া রসগোল্লা আর তার সমাধানে তিতলির গোয়েন্দাগিরি।

সন্ধ্যা ছ’টা থেকে সাতটা: রহস্যের সূচনা

সন্ধ্যা তখন ঠিক ছ’টা পেরিয়েছে। ঘরের আলো নরম, জানলার বাইরে ধীরে ধীরে অন্ধকার নামছে। ফ্রিজ খুলতেই তিতলির মায়ের চোখে পড়ে, রসগোল্লার ভাঁড় ফাঁকা। বাড়িতে তখন তিতলির দাদু, দিদা, মা আর পিসি। ঘটনাটা হয়তো চুপচাপ চাপা পড়েই যেত, যদি না সেই সন্ধ্যায় তিতলির মায়ের বান্ধবী মৌ-আন্টি হঠাৎ এসে পড়তেন। অতিথি মানেই মিষ্টি! তাই ফ্রিজ আবার খুলতে হলো। রসগোল্লার বদলে তিতলির মা দ্রুত সন্দেশ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিলেন। কিন্তু রহস্যটা থেকেই গেল।

প্রথম সন্দেহ ও তিতলির আত্মসমীক্ষা

রসগোল্লা উধাও মানেই সন্দেহ। আর প্রথম সন্দেহটা এসে পড়ল তিতলির দিকেই। কারণ একটাই, চকোলেটের প্রতি তার দুর্বলতা সবার জানা। কিন্তু তিতলি জানে, সে রসগোল্লা খায়নি। নিজের ওপর আস্থা রাখতে সে মনে মনে পুরো সময়টা সাজিয়ে নিল। সন্ধ্যা ছ’টা থেকে সাড়ে সাতটা—বই পড়া, মোবাইল দেখা, একটু অলস বসে থাকা; কিন্তু কোথাও রসগোল্লার জায়গা নেই।

কে কে সন্দেহের বাইরে?

এক এক করে সবাই বাদ পড়তে লাগল। বাবা তখনও অফিস থেকে ফেরেননি। দিদা জর্দা পান করেন, মিষ্টিতে তাঁর আগ্রহ নেই। মা অভিযোগকারিণী, তাই অভিযুক্ত নন। রইল বাকি দু’জন—পিসি আর দাদু। দাদুর ডায়াবেটিস আছে। আর পিসি? পিসিই তো উল্টো! লুকিয়ে তিনি তিতলিকেই চকোলেট জোগান দেন। পিসির ওপর সন্দেহ আসায় তিতলির মনটা একটু খারাপ হয়ে গেল।

বসার ঘরে আলোচনা ও পর্যবেক্ষণ

সবাই বসার ঘরে জড়ো হলো। সোফা আর চেয়ারে বড়রা, আর তিতলি বসল সামনে ছোট একটা টুলে। নিজের মতো করে সবাই যুক্তি দিল, নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করল। তিতলিও দু’-একটা প্রশ্ন করল। ঠিক যেন ছোটখাটো ক্রস-এক্সামিনেশন।

শেষে কথা বলার পালা এলো দাদুর। ঠিক তখনই তিতলির চোখে পড়ল, দাদুর সাদা পাঞ্জাবির বুকের কাছে হালকা একটা দাগ। সে উঠে কাছে গিয়ে আঙুল ছুঁইয়ে দেখল। কিন্তু সে সঙ্গে সঙ্গে কিছু বলল না। নিজের জায়গায় ফিরে এসে একটু থেমে বলল, “রহস্যের সমাধান হয়ে গেছে।”

শবে বরাতের রাত ও অদ্ভুত শাস্তি

শবে বরাতের রাতে চাঁদের আলো ও উৎসবমুখর পরিবেশ

তিতলি শান্ত গলায় বলল, “আজ পবিত্র রাত, শবে বরাত। আজ কেউ দুষ্টুমি করলে শাস্তি মকুব হয়ে যায়। কিন্তু আজ যিনি লুকিয়ে রসগোল্লা খেয়েছেন, তাঁর জন্য একটা হালকা শাস্তি থাকবেই। রাত্তিরে বাইরে থেকে চাউমিন আর চিলি চিকেন।”

ঘরে নিস্তব্ধতা নেমে এলো। কয়েক সেকেন্ড পর দাদু চুপচাপ উঠে নিজের ঘরে গেলেন। ফিরে এলেন হাতে পাঁচশ টাকার নোট। তিতলির বাবার দিকে টাকা বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, “তাড়াতাড়ি করো। আজ শবে বরাত।”

পরিশিষ্ট: স্পেশাল অ্যাওয়ার্ড ও নতুন জট

শবে বরাতের রাতে দাদুর দেওয়া টাকায় চাউমিন আর চিলি চিকেন তো ভালোই জমেছে। এরই মাঝে পিসি তিতলির হাতে রাঙতায় মোড়া এক বিঘত সাইজের ডিপ ব্রাউন কালারের চকোলেট বার গুঁজে দিয়ে চুপিচুপি বলে গেছে, “স্পেশাল অ্যাওয়ার্ড!”

চকোলেট এই মুহূর্তে ফ্রিজে রাখা নিরাপদ নয়, মা অশান্তি করতে পারে। তিতলি খুব নিশ্চিত, দিদার ঘরই সম্পূর্ণ নিরাপদ। নিশ্চিত হওয়ার দুটি কারণ—প্রথমত, দিদার উপরের পাটির দাঁত নেই আর দ্বিতীয়ত, দিদার আজ উপবাস।

অনেকটা রাত হয়ে গেছে। হোম ওয়ার্ক শেষ করতে রাত্রি সাড়ে বারোটা বেজে গেছে! তিতলির মনে হলো, দিদার ঘর থেকে 'কট' করে একটা শব্দ শোনা গেল। তিতলি অধৈর্য হয়ে দিদার ঘরে উঁকি মেরে দেখে, তিনি ঘরের মেঝেতে কী যেন হাতড়াচ্ছেন! “কী হলো দিদা?” তিতলি নিশ্চিত যে, দিদার দাঁতের পাটি মাটিতে পড়তেই এমন শব্দ হয়েছে। চকোলেট তাহলে নিরাপদ!


প্রিয় পাঠক, তিতলি তো তার বুদ্ধি দিয়ে রহস্যের জট খুলল। কিন্তু গল্পের মাঝপথে আপনারাও কি তিতলির আগেই অপরাধীকে শনাক্ত করতে পেরেছিলেন? কমেন্টে আপনাদের মতামত জানাতে ভুলবেন না কিন্তু!

4 comments:

Featured post

২০২৫ সালে ভারতের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি: সৌর ও বায়ুশক্তিতে রেকর্ড উৎপাদন

২০২৫ সালে ভারতের রিনিউএবল এনার্জি সেক্টর আর শুধু “অলটারনেটিভ” নয়; এখন সেটা দেশের পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেম-এর অন্যতম অংশীদার। সোলার, উইন্ড, ব...

পপুলার পোস্ট