24 Feb 2025

যুক্তি বনাম অন্ধবিশ্বাস: জিওর্দানো ব্রুনোর আত্মত্যাগ ও অমরত্ব

কুম্ভ মেলা এবং জিওর্দানো ব্রুনো: বিশ্বাস বনাম যুক্তির ইতিহাস

অমৃতসুধা পান করলে পটলডাঙা যাওয়া অ্যাভয়েড করা যায়। অমৃত তাহলে কেমন ভাবে পাওয়া যাবে? উত্তর হলো সমুদ্রমন্থন। দেবতা এবং অসুর উভয়পক্ষই একসাথে নেমে পড়ল সমুদ্র মন্থন করতে। অনেক কোস্তাকুস্তির পর সমুদ্র থেকে উঠে এল কলস ভর্তি অমৃত।

দুই পক্ষই চায় অমর হতে। ফলে মারপিট, ধস্তাধস্তি আর কাড়াকাড়ি। কলস থেকে কয়েক ফোঁটা অমৃত ছিঁটকে পড়ল এদিক ওদিক। যেখানে অমৃত ছিঁটকে পড়েছিল, সেখানেই নাকি কুম্ভ মেলা। এটা হলো গল্প। তবে আজ পর্যন্ত জানা যায়নি যে আসলে কোন পক্ষ অমর হলো!

কুম্ভ মেলা: বিশ্বাসের মহাকর্ষ

ঐতিহাসিক নিদর্শন থেকে জানা যায় কুম্ভ মেলা নাকি ২০০০ বছরেরও বেশি পুরনো। এই মেলায় স্নান করলে পুলিশ আইন আদালতের হুজ্জতি নেই সব মকুব। ফলে কুম্ভের টান মহাকর্ষ বলের থেকে কোনো অংশে কম নয়!

Imaginary portrait of Giordano Bruno, the philosopher who challenged astronomical dogma and died for science

ছবিঃ জিওর্দানো ব্রুনো: অসীম মহাবিশ্বের সত্য সন্ধানে এক নির্ভীক শহিদ

জিওর্দানো ব্রুনো: যুক্তির আগুনে অমরত্ব

মাত্র সাড়ে চারশ বছর আগে ইতালির নেপলসের এক ধর্মযাজক ক্যাথলিক চার্চের ধর্মগুরুদের ধর্মবিশ্বাসকেই চ্যালেঞ্জ করে বসেন। তিনি জিওর্দানো ব্রুনো। তিনি বলেছিলেন, সূর্য স্থির নয় এবং মহাবিশ্বে আমাদের এই সৌরমন্ডলই একমাত্র মন্ডল নয়। নক্ষত্ররা সবাই দূরের এক একটি সূর্য এবং তাদেরও নিজস্ব গ্রহ আছে। এই মহাবিশ্বের মতো আরও মহাবিশ্ব আছে। পৃথিবী গোল, সূর্য এই মহাবিশ্বের কেন্দ্র নয় এবং এটি একটি সাধারণ নক্ষত্র ছাড়া আর কিছু নয়।

সেটা ছিল মধ্যযুগ। তখন চার্চের এক ভয়ংকর শাখা ছিল ইনকুইজিশন, যাদের দায়িত্ব ছিল ধর্মবিশ্বাসের বিরুদ্ধাচরণকারীকে তদন্ত, বিচার এবং শাস্তি দেওয়া। সেই ইনকুইজিশনই ব্রুনোর বিচার করে তাঁকে খুঁটিতে বেঁধে পুড়িয়ে মারে।

বিশ্বাস ভাঙে, সত্য টিকে থাকে

জিওর্দানোর কথা পরবর্তীতে ধ্রুব সত্য হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এই বিশ্ব অসীম, কিন্তু প্রাণের সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি এমনকি তথাকথিত স্বর্গেরও নয়। দেবতা বা অসুরদেরও কোনো হাদিস নেই।

পুড়িয়ে মারার সেই ঘটনায় আমরা আজও আঁতকে উঠি। এখন কি এমন আর হয় না? কাকদ্বীপের বুধাখালির কথা আমাদের মনে নেই? ব্রুনো অমৃত খাননি ঠিকই, তিনি কেবল যুক্তি দিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। সেই যুক্তিহীন ধর্মবিশ্বাসকে ভুল প্রমাণ করায় তাঁকে মরতে হয়েছিল, কিন্তু সত্যের জয়গান গেয়ে তিনি আজও অমর।


No comments:

Featured post

২০২৫ সালে ভারতের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি: সৌর ও বায়ুশক্তিতে রেকর্ড উৎপাদন

২০২৫ সালে ভারতের রিনিউএবল এনার্জি সেক্টর আর শুধু “অলটারনেটিভ” নয়; এখন সেটা দেশের পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেম-এর অন্যতম অংশীদার। সোলার, উইন্ড, ব...

পপুলার পোস্ট