বর্তমানে ভারত বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপাদন এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী। এই পরিবর্তনের প্রধান অবলম্বন হলো সৌরশক্তি (Solar Power)। সৌরশক্তি শুধু আমাদের পরিবেশ সুরক্ষাই নিশ্চিত করে না, বরং দেশের শক্তির নিরাপত্তা (Energy Security) এবং স্বাবলম্বী হওয়ার পথেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ এনার্জি ট্রানজিশন (Energy Transition) পর্যায়ে, কেন্দ্রীয় সরকারের একটি অন্যতম উদ্যোগ হলো ‘পিএম সূর্য ঘর: মুফত বিজলি যোজনা’। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশের ১ কোটি পরিবারকে ছাদে সৌর-বিদ্যুৎ ব্যবস্থা (Rooftop Solar)-এর সুবিধা দেওয়া, যাতে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পায় এবং দেশও দ্রুত সবুজ শক্তির পথে এগিয়ে যায়।
চিত্রঃ পিএম সূর্য ঘর — এক কোটি পরিবারকে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার উদ্যোগ
জাতীয় স্তরে অ্যাচিভমেন্ট
ডিসেম্বর ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় স্তরে ‘পিএম সূর্য ঘর: মুফত বিজলি যোজনা’র মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। মোট ২৩.৯ লক্ষ পরিবার রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপন করেছে, যার মোট ইনস্টলড ক্যাপাসিটি (Installed Capacity) প্রায় ৭.৩৪ গিগাওয়াট (7.34 GW)। সরকার এই প্রকল্পে এখন পর্যন্ত মোট ₹১৪,২১৩ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক সহায়তা (Subsidy) দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ প্রেক্ষাপট ও চ্যালেঞ্জ
গোটা দেশের নিরিখে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান আশাব্যঞ্জক নয়। রাজ্যের জনঘনত্ব দেশের মধ্যে সর্বোচ্চগুলির অন্যতম হওয়ায় জমির উপর চরম চাপ রয়েছে। অনাবাদি বা পতিত জমির সহজলভ্যতা খুবই সীমিত। এই কারণে ভূমি-ভিত্তিক বৃহৎ সৌর প্রকল্পের সম্ভাবনা কম, এবং রুফটপ সোলারই রাজ্যের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
পশ্চিমবঙ্গের রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের চিত্র
জাতীয় স্তরের সাফল্যের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের পরিসংখ্যানের একটি তুলনামূলক চিত্র নিচে দেওয়া হলো (ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত):
এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ১২,০০০ আবেদনের বিপরীতে স্থাপন হয়েছে মাত্র ১,১১৫টি রুফটপ সোলার সিস্টেম। দেশের মোট স্থাপিত ক্ষমতার মাত্র ০.০৫% ক্ষমতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ এখনও অনেক পিছিয়ে। এই ব্যবধানের সম্ভাব্য কারণ হতে পারে আবেদন প্রক্রিয়াকরণ, মিটারিং (Net/Gross Metering/Billing) অনুমোদন এবং ইনস্টলেশন-এর ধীরগতি।
আর্থিক সুবিধা ও সহজ ঋণের সুযোগ
‘পিএম সূর্য ঘর’ যোজনার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো সহজ শর্তে সাবসিডিযুক্ত ঋণ (Loan) পাওয়ার বিশেষ সুবিধা।
- কম সুদের হার: আরবিআই রেপো রেটের সাথে যুক্ত হয়ে মাত্র ৬% বার্ষিক সুদে ঋণ।
- শূন্য প্রসেসিং ফি: ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের জন্য কোনো প্রসেসিং ফি নেই।
- সর্বোচ্চ সুবিধা: ৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত সোলারের জন্য ₹৭৮,০০০ টাকা সাবসিডি।
- সহজ কিস্তি: ১০ বছর (১২০ মাস) সময়কাল এবং ৬ মাসের মরাটোরিয়াম পিরিয়ড।
- কম মার্জিন: মোট ব্যয়ের মাত্র ১০% মার্জিন দিয়ে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ সম্ভব।
এগিয়ে যাওয়ার পথ: গতি বাড়ানোর প্রয়োজন
- দ্রুত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া: আবেদন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করতে হবে।
- সচেতনতা বৃদ্ধি: সাবসিডি ও ঋণ সুবিধা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।
- ব্যাংকিং সহায়তা: ব্যাংকগুলিকে আরও সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাতে হবে।
ছাদে সোলার বসানো কেবল বিদ্যুৎ বিল কমানোর উপায় নয় — এটি সহজ ঋণ ও সাবসিডির মাধ্যমে রাজ্যের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং দেশের ক্লিন এনার্জি ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করার একটি সুবর্ণ সুযোগ।
Well written with insightful information for both potential consumers and system developers.
ReplyDeleteস্যার! তথ্যবহুল পোস্ট 🙏❤।
ReplyDelete