ভারত বিদ্যুৎ উৎপাদনে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, বিশেষ করে সৌর ও বায়ু শক্তিতে যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। আমাদের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় অর্ধেকই এখন জীবাশ্ম-মুক্ত উৎস থেকে আসে। তবে চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আর এ জন্যই বিদ্যুতের স্টোরেজ (Storage) অপরিহার্য।
চিত্র ১: ভারতের ব্যাটারি স্টোরেজ লক্ষ্যমাত্রা এখন ১৩.২ GWh
প্রাচুর্যের শক্তি: আমাদের কি পর্যাপ্ত জমি আছে?
ভারতে সৌরশক্তির সম্ভাবনা ১০,০০০ গিগাওয়াটের (GW) বেশি। TERI-এর গবেষণা অনুযায়ী, আমাদের বর্তমান ৫০০ GW চাহিদার বিপরীতে এই সম্ভাবনা বিশাল। অর্থাৎ, পর্যাপ্ত জমির অভাব আমাদের উন্নতির পথে বাধা হবে না।
সৌরশক্তি ও স্টোরেজ কি ব্যয়বহুল? উত্তর হলো: না!
- সৌর বিদ্যুতের দাম: বর্তমানে প্রতি ইউনিট মাত্র ২.৫০ টাকার আশেপাশে।
- ব্যাটারি স্টোরেজ (BESS): গত কয়েক বছরে এর খরচ ৯০% কমেছে।
ফলাফল: নতুন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চেয়ে স্টোরেজ-সহ সৌরশক্তি প্রতি ইউনিটে ৫০ পয়সা বেশি সাশ্রয়ী।
স্টোরেজ বিপ্লবের প্রধান তিনটি পথ
ভবিষ্যতের দিকে পদক্ষেপ
প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং স্টোরেজ খরচ কমার কারণে এখন আমাদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সৌরশক্তি ও স্টোরেজকে প্রধান করা সম্ভব। এই স্টোরেজ শুধু অর্থ সাশ্রয় করবে না বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে কার্বন নির্গমনও দ্রুত কমাবে। COP 26-এ ঘোষিত নেট জিরো (Net Zero) লক্ষ্য অর্জনের পথে ভারতে বড় পদক্ষেপ হবে। ভারত দ্রুত বৈশ্বিক জলবায়ু নেতৃত্বে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারবে।
সৌর ও স্টোরেজের মেলবন্ধনই হবে ভারতের 'নেট জিরো' লক্ষ্য অর্জনের মূল চাবিকাঠি। এটি কেবল পরিবেশ বাঁচাবে না, আমাদের পকেটের টাকাও সাশ্রয় করবে। বৈশ্বিক জলবায়ু নেতৃত্বে ভারত এখন এক অপ্রতিরোধ্য নাম।
No comments:
Post a Comment