13 Dec 2025

নেট জিরো লক্ষ্য: ভারত কি স্টোরেজ বিপ্লবের পথে? জানুন BESS, PSP ও CSP সম্পর্কে

ভারত বিদ্যুৎ উৎপাদনে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, বিশেষ করে সৌর ও বায়ু শক্তিতে যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। আমাদের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় অর্ধেকই এখন জীবাশ্ম-মুক্ত উৎস থেকে আসে। তবে চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আর এ জন্যই বিদ্যুতের স্টোরেজ (Storage) অপরিহার্য।

Industrial Battery Energy Storage System (BESS) for solar power backup

চিত্র ১: ভারতের ব্যাটারি স্টোরেজ লক্ষ্যমাত্রা এখন ১৩.২ GWh

প্রাচুর্যের শক্তি: আমাদের কি পর্যাপ্ত জমি আছে?

ভারতে সৌরশক্তির সম্ভাবনা ১০,০০০ গিগাওয়াটের (GW) বেশি। TERI-এর গবেষণা অনুযায়ী, আমাদের বর্তমান ৫০০ GW চাহিদার বিপরীতে এই সম্ভাবনা বিশাল। অর্থাৎ, পর্যাপ্ত জমির অভাব আমাদের উন্নতির পথে বাধা হবে না।

সৌরশক্তি ও স্টোরেজ কি ব্যয়বহুল? উত্তর হলো: না!

  • সৌর বিদ্যুতের দাম: বর্তমানে প্রতি ইউনিট মাত্র ২.৫০ টাকার আশেপাশে।
  • ব্যাটারি স্টোরেজ (BESS): গত কয়েক বছরে এর খরচ ৯০% কমেছে।

ফলাফল: নতুন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চেয়ে স্টোরেজ-সহ সৌরশক্তি প্রতি ইউনিটে ৫০ পয়সা বেশি সাশ্রয়ী।

স্টোরেজ বিপ্লবের প্রধান তিনটি পথ

১. BESS: দ্রুত স্থাপনযোগ্য এবং যেকোনো স্থানে বসানো সম্ভব। নতুন কোম্পানি ও স্টার্ট-আপের অংশগ্রহণ ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমকে আরও প্রসারিত হতে পারে।
২. পাম্প স্টোরেজ (PSP): জলকে কাজে লাগিয়ে বিশাল পরিমাণ শক্তি সঞ্চয়ের প্রাচীন ও কার্যকর পদ্ধতি। বিদ্যুত চালিত পাম্পের সাহায্যে জলকে উঁচুতে তোলা হয়। প্রয়োজন হলে সেই জল ছেড়ে টারবাইন ঘুড়িয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা যায়। ভারতে নদীভিত্তিক PSP-এর সম্ভাবনা প্রায় ১৯০ GW। PSP নির্মাণে তুলনামূলকভাবে কম সময় লাগে
৩. কনসেনট্রেটেড সোলার (CSP): বড় রিফ্লেক্টরের মাধ্যমে সৌর তাপ লবণে সঞ্চয় করে রাখা হয়। সঞ্চিত তাপের মাধ্যমে রাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। যেসব এলাকায় Direct Normal Irradiance (DNI) ভালো, সেসব স্থানে CSP প্রযুক্তি কার্যকর।

ভবিষ্যতের দিকে পদক্ষেপ

প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং স্টোরেজ খরচ কমার কারণে এখন আমাদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সৌরশক্তি ও স্টোরেজকে প্রধান করা সম্ভব। এই স্টোরেজ  শুধু অর্থ সাশ্রয় করবে না বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে কার্বন নির্গমনও দ্রুত কমাবে। COP 26-এ ঘোষিত নেট জিরো (Net Zero) লক্ষ্য অর্জনের পথে ভারতে বড় পদক্ষেপ হবে। ভারত দ্রুত বৈশ্বিক জলবায়ু নেতৃত্বে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারবে।

সৌর ও স্টোরেজের মেলবন্ধনই হবে ভারতের 'নেট জিরো' লক্ষ্য অর্জনের মূল চাবিকাঠি। এটি কেবল পরিবেশ বাঁচাবে না, আমাদের পকেটের টাকাও সাশ্রয় করবে। বৈশ্বিক জলবায়ু নেতৃত্বে ভারত এখন এক অপ্রতিরোধ্য নাম।

No comments:

Post a Comment

Featured post

২০২৫ সালে ভারতের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি: সৌর ও বায়ুশক্তিতে রেকর্ড উৎপাদন

২০২৫ সালে ভারতের রিনিউএবল এনার্জি সেক্টর আর শুধু “অলটারনেটিভ” নয়; এখন সেটা দেশের পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেম-এর অন্যতম অংশীদার। সোলার, উইন্ড, ব...

পপুলার পোস্ট