ফড়িংয়ের আনন্দ আর বিবাগী পলু চাষি
অকারণেই আজ সকালে ফুটপাথে দাঁড়িয়ে মাছ বিক্রি দেখছিলাম। কেজিতে কুড়ি টাকা লাভ; শনি-রবিবারে ২০-২৪ কেজি মাছের বেচাকেনা। বিক্রি না-হওয়া মাছ লাভ কমিয়ে দেয়, তবে দশ কেজি পাইকারি মাছে ৫০০ গ্রাম বাড়তি পাওনা কিছুটা পুষিয়ে দেয়। নিউ টাউনের উৎপাত বাহিনী সামাল দিতে নিয়মিতই লাভের টাকাতেই খরচ মেটাতে হয়।
হালকা রোদ্দুর ছিল, কিন্তু উত্তরের হাওয়া লাগছিল না। খেয়াল করলাম, অনেক ফড়িং আর সাদা প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে। ক’দিন আগেই ঘাসের বনে প্রচুর ধূসর প্রজাপতি দেখেছিলাম। রাতে ঘর-বারান্দাতেও উড়ে বেড়িয়েছে। সকালে কাচের স্লাইডিং পাল্লা খুলে দিয়েছিলাম, যাতে বাইরে বেরিয়ে যায়।
(১)
ফড়িং আর সাদা প্রজাপতির উড়ান দেখে দুটি গানের কথা মনে পড়ল—যদিও দুটিই ভ্রমর-সংক্রান্ত। ‘ভ্রমর সেথা হয় বিবাগী, নিভৃত নীল পদ্ম লাগি…’। আরেকটি, ‘আজ ভ্রমর ভোলে মধু খেতে, উড়ে বেড়ায় আলোয় মেতে…’।
দেখছিলাম, সাদা প্রজাপতির ক্ষেত্রে ‘উড়ে বেড়ায় আলোয় মেতে’—একেবারেই যথার্থ। ওরা এদিক-ওদিক উড়ে, নেচে বেড়াচ্ছিল যেন আনন্দে আত্মহারা! রাস্তার ধারে খুব বেশি ফুল নেই; মাধবীলতা, কিছু রঙ্গন আর কয়েকটি বুনো সাদা ফুল।
ফড়িংদের উড়ান ছিল ছ’ফুট চওড়া ফুটপাথে ২৫-৩০ ফুট এলাকা জুড়ে। কিসের আনন্দে আজ ওরা এমন আত্মহারা কে জানে! কেউ বিবাগী নয়; কাছেই কোনো ঝোপঝাড়ে জন্মেছে, বেড়ে উঠেছে, আবার নতুন জন্ম দেবে! ক্ষণিকের জীবন: প্রজাপতির এক মাসের বেশি নয়; ফড়িং হয়তো ছ’মাস।
(২)
আজ সকালে এক অদ্ভুত, অথচ অবশ্যম্ভাবী খবর দেখলাম। মুর্শিদাবাদে যারা একদিন পলু চাষ করত, যাদের দুয়ারে ক্রেতারা রেশম কিনতে আসত, আজ তারাই বাইরে গিয়ে দিনমজুরির শ্রম বিক্রি করছে! দিন বদলেছে, কিন্তু পলু চাষিদের অবস্থার কী হল? তারা-ই তো আজ বিবাগী, বাঁচতেই হবে।
(৩)
পলু তো লার্ভা; পলু পোকা যখন গুটি (কোকুন) তৈরি করে, তখন সেই গুটি থেকেই রেশম সুতা বের করা হয়। গুটি থেকে রেশম না তুললে মথ বেরিয়ে আসে। কেউ কখনো 'মথ চাষ' বলে না—অদ্ভুত না?

excellent
ReplyDelete