23 Dec 2025

জলবায়ু ও জ্বালানি সংকট: IEA-এর সতর্কবার্তা ও আমাদের ভবিষ্যৎ

জলবায়ু পরিবর্তন আর জ্বালানি নিরাপত্তা: IEA আমাদের কী সাবধান করছে?

আজকাল আমরা সবাই টের পাচ্ছি—গরম বাড়ছে, আবহাওয়া অস্বাভাবিক হচ্ছে। হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি আর বিদ্যুৎ চলে যাওয়া যেন নিত্যদিনের ঘটনা। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা International Energy Agency (IEA) তাদের প্রকাশনা ওয়ার্ল্ড এনার্জি আউটলুকে (WEO) বলছে, এই সবকিছুর সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তার একটি গভীর যোগ আছে। আমাদের বর্তমান বিদ্যুৎ ব্যবস্থা জলবায়ু পরিবর্তনের এই চরম ধাক্কা সামলানোর জন্য এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।

জ্বালানি নিরাপত্তা কী? সহজ কথায়, প্রয়োজনীয় সব ধরনের জ্বালানি (তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ বা সৌরশক্তি) যখন নিরবচ্ছিন্নভাবে, সাশ্রয়ী দামে এবং দীর্ঘমেয়াদে পাওয়া নিশ্চিত হয়, তাকেই জ্বালানি নিরাপত্তা বলে।

১. চরম আবহাওয়ায় বিপন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা

IEA-এর তথ্যমতে, ২০২৩ সালেই চরম আবহাওয়ার কারণে বিশ্বের প্রায় ২০ কোটির বেশি পরিবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হয়েছে। ঝড় বা বন্যার কবলে পড়ে লাইন ছিঁড়ে যাওয়া এখন সাধারণ বিষয়। ভবিষ্যতে এই ঝুঁকি আরও বাড়বে।

অন্যদিকে, তাপমাত্রা বাড়লে এসি ও কুলারের ব্যবহার বাড়ে। IEA বলছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এই বিশাল চাহিদার চাপে অনেক সময় ব্যাকআপ সিস্টেমও ফেইল করতে পারে, যার ফলে বড় ধরনের ব্ল্যাকআউটের ঝুঁকি তৈরি হবে।

২. তেল-গ্যাসের ওপর নির্ভরতা: বাস্তবতা বনাম লক্ষ্য

আমরা ভাবি সৌরশক্তি এলেই তেল-গ্যাসের দিন শেষ। কিন্তু IEA-এর রিপোর্ট বলছে ভিন্ন কথা। বর্তমান নীতি অনুযায়ী ২০৫০ সালের পরেও তেল ও গ্যাসের ব্যবহার বাড়তে থাকবে। এর মূল কারণ ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান চাহিদা।

তবে আশার কথা হলো, সঠিক পদক্ষেপ নিলে এই দশকের শেষেই তেলের চাহিদা স্থিতিশীল হতে পারে। এখন বিশ্বের বিদ্যুতের এক-তৃতীয়াংশ আসে পুনর্নবীকরণযোগ্য উৎস থেকে, যা ২০৩৫ সালে ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

৩. সুযোগ ও সমাধান: হাতের কাছেই সমাধান

মজার বিষয় হলো, ভবিষ্যতে যেখানে বিদ্যুতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বাড়বে, সেই এলাকাগুলোর ৮০ শতাংশেই প্রচুর সূর্যালোক পাওয়া যায়। অর্থাৎ, সৌরশক্তি ব্যবহারের বিশাল সুযোগ আমাদের সামনেই আছে।

পাশাপাশি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ আবার আলোচনায় ফিরছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাড়তে পারে বলে IEA ধারণা করছে।

৪. IEA-এর হুঁশিয়ারি: আমরা কোন পথে?

যদি আমরা কার্বন নিঃসরণ না কমাই, তবে পৃথিবীর তাপমাত্রা ২.৫ থেকে ৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে:

  • ঘন ঘন তাপপ্রবাহ ও খরা দেখা দেবে।
  • সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হবে।
  • খাদ্য ও জলসংকট তীব্রতর হবে।

শেষকথা

IEA-এর বার্তা পরিষ্কার, জলবায়ু পরিবর্তন আর জ্বালানি নিরাপত্তা একে অপরের পরিপূরক। জলবায়ু যত খারাপ হবে, আমাদের জ্বালানি ব্যবস্থাও তত বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে। প্রশ্ন একটাই, সব জানার পরও কি আমরা চুপ করে থাকব, নাকি এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নেব?

No comments:

Post a Comment

Featured post

২০২৫ সালে ভারতের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি: সৌর ও বায়ুশক্তিতে রেকর্ড উৎপাদন

২০২৫ সালে ভারতের রিনিউএবল এনার্জি সেক্টর আর শুধু “অলটারনেটিভ” নয়; এখন সেটা দেশের পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেম-এর অন্যতম অংশীদার। সোলার, উইন্ড, ব...

পপুলার পোস্ট