সোলার সেলের দক্ষতা: বর্তমান প্রযুক্তি ও ভবিষ্যতের পথে নতুন মাইলফলক
বিশ্ব এখন ‘এনার্জি ট্রানজিশন’-এর এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে। জীবাশ্মজাত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুনর্নবীকরণযোগ্য ও কম-কার্বনভিত্তিক শক্তির উৎসে সরে যাওয়ার লক্ষ্যে একটি বড় কাঠামোগত রূপান্তরের দিকে বিশ্ব এগোচ্ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে সোলার সেল। কিন্তু আমরা প্রায়ই শুনি সোলার প্যানেলের 'এফিসিয়েন্সি' বা দক্ষতার কথা। আসলে এটি কী এবং কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?
সোলার সেলের দক্ষতা (Efficiency) কী?
সহজ কথায়, সোলার সেলের এফিসিয়েন্সি বলতে বোঝায় সূর্যের আলোর কত শতাংশ শক্তি সরাসরি বিদ্যুৎ হিসেবে রূপান্তরিত করা যায়। যদিও একটি সোলার সিস্টেমের উৎপাদন ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু এবং সূর্যালোকের ওপর নির্ভর করে, কিন্তু প্রযুক্তির উৎকর্ষই নির্ধারণ করে আমরা কতটা সাশ্রয়ীভাবে বিদ্যুৎ পাব।
তাত্ত্বিকভাবে, একটি সিঙ্গেল জাংশন (Single Junction) সোলার সেলের সর্বোচ্চ এফিসিয়েন্সি প্রায় ৩৩–৩৪% হতে পারে। তবে আধুনিক গবেষণাগারে মাল্টি-জাংশন (Multi-junction) সেলের মাধ্যমে এই রেকর্ড এখন ৪৭.৬% পর্যন্ত পৌঁছেছে।
বর্তমানের সেরা প্রযুক্তি: PERC বনাম TOPCon
বর্তমানে বাজারের প্রায় ৯৫ শতাংশ সোলার মডিউল সিলিকনভিত্তিক। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত দুটি প্রযুক্তি হলো PERC এবং TOPCon। নিচে এদের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
পারোভস্কাইট-সিলিকন ট্যান্ডেম: সৌরশক্তির ভবিষ্যৎ
সৌরশক্তির ইতিহাসে সাম্প্রতিক সবথেকে বড় মাইলফলক হলো পারোভস্কাইট-সিলিকন ট্যান্ডেম সোলার সেল। চীনা বিজ্ঞানীদের দাবি অনুযায়ী, এই সেলের দক্ষতা ৩১ শতাংশের বেশি নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
কেন এটি বিশেষ?
- দ্বিগুণ শোষণ: পেরোভস্কাইট স্তর নীল আলো শোষণ করে এবং সিলিকন স্তর লাল/অবলোহিত আলো শোষণ করে।
- বহুমুখী ব্যবহার: এটি হালকা ও নমনীয় হওয়ায় জানালার কাঁচ বা গাড়ির বডিতেও ব্যবহার করা যাবে।
এনার্জি পে-ব্যাক এবং পরিবেশগত প্রভাব
সোলার প্রযুক্তির একটি শক্তিশালী দিক হলো এনার্জি পে-ব্যাক টাইম (Energy Pay-back Time)। একটি প্যানেল তৈরি করতে যে পরিমাণ শক্তি খরচ হয়, আধুনিক প্যানেলগুলো মাত্র ১–৪ বছরের মধ্যেই সেই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ফেলে। যেখানে একটি প্যানেলের আয়ুষ্কাল ২০–২৫ বছর, সেখানে এটি দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত লাভজনক।
শেষকথা
বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ এখনও জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে আসে। উন্নত সোলার প্রযুক্তি মানেই হলো—কম জমি এবং কম উপকরণ ব্যবহার করে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন। চীনা বিজ্ঞানীদের এই নতুন আবিষ্কার জ্বালানি নিরাপত্তার নতুন দ্বার খুলে দেবে।
No comments:
Post a Comment