রাতে আমার ভাইপো অর্কপ্রভ ওরফে ট্যাবলেট-এর সাথে শব্দজব্দ খেলছিলুম। খুব একটা ঠান্ডা নেই, তবুও গা গরম রাখতে বার কয়েক চা খেয়েছি। প্রথম দানেই ট্যাবলেট আমায় একদম কাবু করে ফেলল।
(১)
খেলাটা শুরু হলো এইভাবে - ট্যাবলেট যা প্রশ্ন করবে, আমায় তার ভুল উত্তর দিতে হবে। পরপর তিনটি প্রশ্নের উল্টোপাল্টা উত্তর শুনে, ও দুম করে জিজ্ঞাসা করল, “কাকা তোমায় ক’টা প্রশ্ন করেছি?” আমি সহজভাবে 'তিন' বলায় ও হেসে বলল, “উঁহু, তুমি ফেল!” আমি ব্যাপারটা বুঝেই বললুম, “শেষ প্রশ্ন ধরলে চার, তাই আমি তিনে সেরেছি!”
(২)
এক সময় ট্যাবলেট যখন 'খেই হারানো'র অর্থ জিজ্ঞাসা করল, শব্দভাণ্ডারে খুব একটা সমৃদ্ধ না হওয়ার কারণে জব্দ হয়ে জানলুম, খেই মানে সুতার ডগা! অদ্ভুত! আমরা না জেনেই কত খেই হারাই।
শেষে ট্যাবলেট আমায় এক মোক্ষম প্যাঁচ দিল! ‘বড়দিন’, ‘ঠান্ডায় কাবু’ আর ‘গরম চায়ে’র মধ্যে মিল খুঁজে বের করতে হবে। এমন কঠিন প্রশ্নে বুকের কাঁপুনি গোপন করা গেলেও হাঁটু আর কন্ট্রোলে রইল না। ট্যাবলেট মুচকি হেসে বলল, “ভয় পেও না।”
ট্যাবলেটের উত্তুরে আমি ভারী আশ্চর্য হলাম। এই সবের মিল নাকি ‘কাঁপুনি’! ওর যুক্তি হল, বড়দিনের জিঙ্গল মানে ঘণ্টার কাঁপুনি, ঠান্ডায় কাবু মানে শরীরের কাঁপুনি, আর গরম চা মানে জলের অণুর কাঁপুনি।
(৩)
প্রথম দুটো বুঝেছি, কিন্তু তিন নম্বরটা শুনে মনে হলো এটা ট্যাবলেটের বিজ্ঞান চর্চার ফল। আমি ওকে বিপদে ফেলতে পাল্টা প্রশ্ন করলুম, “তাহলে শীতে আমরা কাঁপি কেন?” ট্যাবলেট দুর্দান্তভাবে সেটা ট্যাকেল করল— “এটা মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া। শরীর কাঁপলে ভেতরটা কাঁপবে, ফলে শরীর গরম হবে।”
(৪)
আমার মনে পড়ে গেল, কিছুদিন আগে ট্যাবলেটকে তাপের বিষয়টি বুঝিয়েছিলুম। তাপ হলো শুধুই পদার্থের অণু-পরমাণুর কম্পন। তখন ও একটা প্রশ্ন করেছিল, “এই কাঁপুনি বন্ধ হলে পদার্থের তাপমাত্রা কেমন হবে?”
আমি বললুম, “আরেকদিন হবে।”
(৫)
আগামীকাল ট্যাবলেটকে নলেন গুড়ের রসগোল্লা খাওয়াতেই হবে, তবে সেটা গরম গরম। এখনও কনফার্ম করিনি, কারণ দোকানে পাওয়া যাবে কি না তাই তো জানি না!

No comments:
Post a Comment