মুজতবা আলীর সাথে এক কাপ চা: জীবন, হাসি ও রেজিলিয়েন্স
আলী সাহেবকে জিজ্ঞাস করলুম, "আলী সাহেব, আপনার লেখা পড়ি.. মনে হয় লাইফ ইজ জাস্ট আ কমেডি শো, কিন্তু বাস্তবে তো দুনিয়া বহুত সখ্ত জায়গা হ্যায়।"
তিনি মুচকি হেসে জবাব দিলেন, "আরে ভাই, কঠিন তো আছেই। কিন্তু দেখো, জিন্দাগী এক চা-ই কি পিয়ালি হ্যায় — ঠাণ্ডি হো তো বেকার, লেকিন গরম হো তো ভি হাত জলা দেতি হ্যায়।"
(১)
"তাইলে সমাধানটা কী?" জিজ্ঞেস করতেই আলী সাহেবের পাল্টা প্রশ্ন, "তুমি কি বাঙাল?" আমি 'হ' বলতেই শুরু করলেন তাঁর সেই চিরচেনা স্টাইলে, "শোনো, সিপ ইট স্লোলি উইথ অ্যা স্মাইল। সংসার, চাকরি, পড়া, লিখা সবই করতে হবে স্টেডি পেসে। কিন্তু আজকালকার পোলাপানরা সবাই তো তাড়াহুড়া করে; ক্যারিয়ার, মানি, ফেম..। লক্ষ্য পূরণ না হইলে জেহ্নি দবাও (মানসিক চাপ)। তাই তো সাহেব কইলেন, "যো হাস্তে হাস্তে গির্তা হ্যায়, উও জলদি উঠ্ জাতা হ্যায়। যো রোতে রোতে গির্তা হ্যায়, উও জমিন পর লম্বা পড়্ জাতা হ্যায়।"
(২)
আমি বুঝলাম হাসি হইলো গিয়া রেজিলিয়েন্স। সাহেব বললেন, "একদম। আর শেখার আসল মানে কি জানো? নিজেরে নিয়ে হাসতে শেখা। যখন মানুষ নিজের ভুল নিয়েও হেসে নিতে পারে, তখনই সে এডুকেটেড হয়ে ওঠে। জিন্দেগী কো সিরিয়াস মাত লো, ওরনা তুমহে জোকে বানা দেগি। যে হাসতে হাসতে নিজের ওপর মজা করতে পারে, তার কাছে জেহ্নি দবাও নেহি টিকে।"
হাসি হলো সেরা মেডিসিন উইদাউট এনি প্রেসক্রিপশন। কফি আর সিগারেট শেষ করে মুজতবা আলী বিদায় নিলেন।
(৩)
কফি সিগারেট শেষ। মুজতবা আলী বিদায় নিলেন। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখি বকুলতলা থেকে ভেসে এলো তাঁর স্বর - যেখান দিয়ে হেসে গেছে, হাসি তার রেখে গেছে রে। মনে হল আঁখির কোণে আমায় যেন ডেকে গেছে সে।
আরে কী আশ্চর্য! আমি তো এই কথাই ভাবছি, "আমি কোথায় যাব, কোথায় যাব, ভাবতেছি তাই একলা বসে।"

No comments:
Post a Comment