21 Dec 2025

২১শে ডিসেম্বর: আপনার সোলার প্যানেল বসানোর জায়গা কি ছায়ামুক্ত?

   

সোলার ফটোভোল্টাইক প্রযুক্তিতে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সূর্যের আলো অপরিহার্য। তাই প্রথমেই নিশ্চিত করতে হয়, দিনের বেশিরভাগ সময় যেন সোলার প্যানেলের ওপর কোনো ছায়া না পড়ে এবং পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায়।

বছরের সবচেয়ে ছোট দিন অর্থাৎ ২১শে ডিসেম্বরই হলো সোলার প্যানেল বসানোর জায়গা নির্বাচনের শ্রেষ্ঠ সময়। এই দিন দুপুর ১২টায় যদি আপনার সোলার বসানোর জায়গাটি ছায়ামুক্ত থাকে, তবে নিশ্চিত থাকুন সারা বছর আপনার প্যানেল পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাবে।  

সূর্যালোক বনাম বিচ্ছুরিত আলো

   

এখানে সূর্যের আলো বলতে মূলত বোঝানো হচ্ছে সরাসরি সূর্যালোক (Direct Solar Irradiation)। দিনের বেলায় ছায়াতেও আলো থাকে, তবে সেই আলো মূলত বিচ্ছুরিত সূর্যালোক (Diffused Irradiation) এবং আশপাশের ভূমি বা বস্তু থেকে প্রতিফলিত অ্যালবিডো আলো (Albedo Radiation)। এই আলো থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, কিন্তু সরাসরি সূর্যালোকের তুলনায় তা অনেক কম কার্যকর।

   

সোলার প্যানেলের কর্মদক্ষতা (Efficiency) কী?

   

সোলার প্যানেল সূর্যের আলোক শক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তরিত করে, কিন্তু সূর্য থেকে আসা সব আলোক কণা বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয় না। প্যানেল যে ফটোভোল্টাইক সেল (Photovoltaic Cell) দ্বারা তৈরি হয়, তার কর্মদক্ষতা বাড়ানোর অর্থ হলো সূর্যের আলোর কণার (Photon) ব্যবহার বাড়িয়ে তোলা।

        
       

একটি উদাহরণ: ধরা যাক একটি ১০০ ওয়াট (Wp) ক্ষমতার সোলার প্যানেল, যার দক্ষতা ২০%। এর অর্থ হলো—প্যানেলের ওপর যে মোট সৌরশক্তি আপতিত হয়, তার মাত্র ২০% বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। বাকি ৮০% শক্তি তাপ হিসেবে অপচয় হয় বা প্রতিফলিত হয়।

       

সতর্কতা: যদি প্যানেলের ওপর ছায়া পড়ে, তবে এই ২০% কার্যকর রূপান্তরের সুযোগও আরও কমে যায়। তাই সরাসরি সূর্যালোক পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

   
   
   

সূর্যের অবস্থান কেন প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়?

   

পৃথিবী নিজের অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, ফলে সূর্যের আলো পৃথিবীর ওপর ভিন্ন ভিন্ন কোণে এসে পড়ে। কোনো একটি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে সূর্য আকাশে কোথায় থাকবে, তা তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে: ১. আপনি পৃথিবীর কোথায় আছেন (অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ), ২. দিনের কোন সময় এবং ৩. বছরের কোন সময়।

   

সূর্যের গতি ও দিনের দৈর্ঘ্য: বৈজ্ঞানিক প্রেক্ষাপট

   

পৃথিবীর ঘূর্ণন অক্ষ প্রায় ২৩.৪৫° কোণে হেলে আছে। এই অক্ষীয় ঝোঁকের কারণেই বছরে দুটি নির্দিষ্ট দিনে দিন ও রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়, যাকে ইক্যুইনক্স (Equinox) বলা হয় (২০–২১ মার্চ এবং ২২–২৩ সেপ্টেম্বর)। এছাড়া বছরে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিন রয়েছে—সামার সলিস্টিস (২১ জুন) এবং উইন্টার সলিস্টিস (২১–২২ ডিসেম্বর)।

Variation of Noon Shadows in Summer and Winter Solstice

চিত্র: সামার ও উইন্টার সলিস্টিসে দুপুরবেলার ছায়ার দৈর্ঘ্যের পার্থক্য  

উইন্টার সলিস্টিসের সময় সূর্য উত্তর গোলার্ধে সর্বনিম্ন সৌর উচ্চতা কোণে (Minimum Solar Altitude Angle) অবস্থান করে। এর সরাসরি ফল হলো—এই দিনে ছায়ার দৈর্ঘ্য বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়।

  
   

সোলার PV ডিজাইনে ২১শে ডিসেম্বরের গুরুত্ব

   

সোলার PV সিস্টেম ডিজাইন ও সাইট নির্বাচনের সময় ২১–২২ ডিসেম্বরকে “Worst-Case Shading Condition” হিসেবে ধরা হয়। যদি উইন্টার সলিস্টিসের দিনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কোনো গাছ বা স্থাপনার ছায়া সোলার মডিউলের ওপর না পড়ে, তবে নিশ্চিত হওয়া যায় যে বছরের অন্য কোনো দিনেই ওই স্থানে ছায়াজনিত সমস্যা হবে না।

   
        পরামর্শ: আপনি যদি নতুন সোলার প্যানেল বসানোর কথা ভাবছেন, তবে এই ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহটিই আপনার ছাদ বা জায়গাটি পরীক্ষা করার সেরা সময়!    
   
       

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করতে পারেন। বিজ্ঞানের আরও রোমাঞ্চকর তথ্য পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন GoSolarBangla-তে।

   

No comments:

Post a Comment

Featured post

২০২৫ সালে ভারতের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি: সৌর ও বায়ুশক্তিতে রেকর্ড উৎপাদন

২০২৫ সালে ভারতের রিনিউএবল এনার্জি সেক্টর আর শুধু “অলটারনেটিভ” নয়; এখন সেটা দেশের পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেম-এর অন্যতম অংশীদার। সোলার, উইন্ড, ব...

পপুলার পোস্ট