পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত সোলার প্যানেল বসানোর সঠিক দূরত্ব ও ছায়ার হিসাব (Shadow Factor) নিয়ে বিস্তারিত গাইড।
পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে গঙ্গাসাগর - আপনার জেলায় সোলার প্যানেলের সঠিক দূরত্ব ও ছায়ার হিসাব নির্ণয় করুন এই গাইড থেকে।
Solar Panel Shade Calculator: West Bengal Location wise Guide
নিজের বাড়ির ছাদে রুফটপ সোলার সিস্টেম থাকলে নিজের বিদ্যুৎ নিজেই তৈরি করে নেওয়া যায়। বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের বর্তমান রেগুলেশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প, পিএম সূর্য ঘর মুফতি বিজলি যোজনায় আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকায় পশ্চিমবঙ্গে এটি ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে।
বাড়ির ছাদে সিস্টেম বসানোর আগে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দক্ষিণমুখী, খোলা এবং ছায়ামুক্ত পর্যাপ্ত জায়গা আছে কিনা তা নিশ্চিত করা। পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শিলিগুড়ি থেকে গঙ্গাসাগ - সব জায়গায় সোলার প্যানেল বসানোর নিয়ম বা পদ্ধতি এক হবে না।
১. পশ্চিমবঙ্গে 'শেড অ্যানালিসিস' কেন গুরুত্বপূর্ণ?
রাজ্যের উত্তর (শিলিগুড়ি) এবং দক্ষিণ (গঙ্গাসাগর) প্রান্তের মধ্যে অক্ষাংশের পার্থক্য প্রায় ৫ ডিগ্রি। এর ফলে একই দিনের একই সময়ে বিভিন্ন জায়গায় সূর্যের ছায়ার দৈর্ঘ্য ভিন্ন হয়।
এখানে উন্নতি কোণ (Solar Elevation) বলতে বোঝানো হয়, অনুভূমিক তলের সঙ্গে সূর্যের অবস্থানের যে কোণ তৈরি হয়। সূর্য আকাশে কতটা উঁচুতে আছে, তা এই কোণ দিয়েই নির্ধারিত হয়। এই কোণ যত কম হয়, ছায়া তত লম্বা হয়।
- দুপুরবেলা: সূর্য যখন মাথার ওপরে থাকে, তখন এই কোণের মান সবচেয়ে বেশি হয়, তাই ছায়া ছোট হয়।
- ভোর বা বিকেলে: সূর্য দিগন্তের কাছে থাকে বলে উন্নতি কোণ খুব কম হয়, ফলে ছায়া অনেক লম্বা হয়।
২. জেলাভিত্তিক অক্ষাংশ ও সূর্যের উন্নতি কোণ
| শহর/লোকেশন | অক্ষাংশ (Latitude) | সূর্যের উন্নতি কোণ (α) | বাধার উচ্চতা (X m) | ছায়ার দৈর্ঘ্য (Y m) | সময়কাল |
|---|---|---|---|---|---|
| শিলিগুড়ি | 26.7°N | ≈ 40° | 1.2 | 1.43 | শীতকাল |
| মালদা | 25.0°N | ≈ 42° | 1.2 | 1.33 | শীতকাল |
| বর্ধমান | 23.2°N | ≈ 44° | 1.2 | 1.24 | শীতকাল |
| কাঁথি / কলকাতা | 22.5°N | ≈ 44° | 1.2 | 1.24 | শীতকাল |
| গঙ্গাসাগর | 21.6°N | ≈ 45.5° | 1.2 | 1.18 | শীতকাল |
৩. পশ্চিমবঙ্গের জেলাভিত্তিক 'ছায়ার ফ্যাক্টর' টেবিল
প্যানেলের দূরত্ব নির্ণয় করতে নিচের চার্টটি ব্যবহার করুন:
| শহর | অক্ষাংশ (Lat) | সূর্যের কোণ (β) | tan(β) মান | ছায়ার ফ্যাক্টর (1 ÷ tanβ) |
|---|---|---|---|---|
| শিলিগুড়ি | 26.7° N | 39.8° | 0.83 | 1.20 গুণ |
| মালদা | 25.0° N | 41.5° | 0.88 | 1.13 গুণ |
| সিউড়ি / বোলপুর | 23.9° N | 42.6° | 0.92 | 1.08 গুণ |
| কলকাতা / ঝাড়গ্রাম | 22.5° N | 44.0° | 0.96 | 1.04 গুণ |
| গঙ্গাসাগর | 21.7° N | 44.8° | 0.99 | 1.01 গুণ |
৪. এই টেবিলটি কীভাবে ব্যবহার করবেন?
দেওয়াল বা অন্য প্যানেলের ছায়ার দৈর্ঘ্য বের করার দুটি সহজ পদ্ধতি আছে:
পদ্ধতি ১: tan(β) দিয়ে ভাগ করা
- সূত্র: ছায়ার দৈর্ঘ্য = বাধার উচ্চতা ÷ tan(β)
- উদাহরণ: শিলিগুড়িতে ৪ ফুট উঁচু প্যারাপেট ওয়ালের ছায়া হবে $৪ \div ০.৮৩ = ৪.৮১$ ফুট (অর্থাৎ অন্তত ৫ ফুট জায়গা ছাড়তে হবে)।
পদ্ধতি ২: ছায়ার ফ্যাক্টর দিয়ে গুণ করা (সবচেয়ে সহজ)
- সূত্র: ছায়ার দৈর্ঘ্য = বাধার উচ্চতা × ফ্যাক্টর
- উদাহরণ: কলকাতায় ৬ ফুট উঁচু প্যানেলের ছায়া হবে $৬ \times ১.০৪ = ৬.২৪$ ফুট (অর্থাৎ দুটি সারির মধ্যে অন্তত ৬.৫ ফুট গ্যাপ রাখতে হবে)।
৫. মনে রাখার ৩টি পয়েন্ট
- ছায়ার হিসাব সবসময় ২২ ডিসেম্বর (Winter Solstice) ধরে করতে হবে।
- শিলিগুড়িতে দুটি প্যানেলের সারির মাঝের গ্যাপ কলকাতার চেয়ে বেশি হবে।
- নিরাপদ থাকার জন্য হিসাবের চেয়ে অতিরিক্ত ২৫% জায়গা ছাড়া সর্বদা ভালো।
বাড়ির ছাদে সোলার পাওয়ার সিস্টেম বসানোর পরিক্লপনা করলে, নিচের লিঙ্কগুলোতে ক্লক করুন।
- পশ্চিমবঙ্গের বায়ু ও সৌর শক্তির সম্ভাবনা: একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- পশ্চিমবঙ্গে রুফটপ সোলার: নতুন নির্দেশিকা 'Procedure C–2025'
- পিএম সূর্য ঘর যোজনা: ৩০০ ইউনিট বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পেতে কীভাবে আবেদন করবেন?
- এক ঝলকে ভারতে সৌর-বিদ্যুৎ উৎপাদন চিত্র এবং পশ্চিমবঙ্গে বাড়ির ছাদে সৌর- বিদ্যুৎ ব্যাবস্থা বাসানোর রেগুলেশন
সঠিক পরিকল্পনায় বসানো সোলার সিস্টেমই পারে দীর্ঘমেয়াদী সাশ্রয় নিশ্চিত করতে। রুফটপ সোলার বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করতে পারেন।
Excellent Sir
ReplyDelete