ভারতের National Green Hydrogen Mission কী, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ, এবং কীভাবে এটি ভারতকে একটি Global Green Hydrogen Hub বানাতে পারে - একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা। ভারতের ন্যাশানাল হাইড্রোজেন মিশন হলো ক্লাইমেট লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং গ্রিন হাইড্রোজেন ও গ্রিন অ্যামোনিয়া উৎপাদনের হাবে পরিণত করার জন্য একটি মিশন।
চিত্র: গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনের প্রক্রিয়া
গোটা বিশ্ব এখন দ্রুত নির্মল শক্তির (Clean Energy) দিকে এগোচ্ছে। কার্বন নির্গমন কমানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমানোর জন্য নতুন প্রযুক্তির সন্ধান চলছে। প্রচিলত থেকে অপ্রচলিত শক্তির উত্তরণে অন্যান্য মিশনের মধ্যে ভারত সরকার চালু করেছে National Green Hydrogen Mission।
এই মিশনের লক্ষ্য হলো ভারতকে ভবিষ্যতে একটি Global Green Hydrogen Hub হিসেবে গড়ে তোলা এবং শিল্প, পরিবহন ও শক্তি ব্যবস্থায় পরিষ্কার জ্বালানি ব্যবহারের পথ তৈরি করা।
গ্রিন হাইড্রোজেন (Green Hydrogen) কী?
হাইড্রোজেন (Hydrogen) এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে প্রাচুর্যপূর্ণ উপাদান এবং পৃথিবীর সবচেয়ে প্রচুর পরিমাণে থাকা রাসায়নিক মৌলগুলোর একটি। তবে এটি মৌলটি সাধারণত জল বা অন্যান্য যৌগের মধ্যে থাকে।
যখন পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি (যেমন সৌর বা বায়ু শক্তি) ব্যবহার করে জল (H₂O) কে ভেঙে হাইড্রোজেন তৈরি করা হয়, তখন তাকে বলা হয় সবুজ হাইড্রোজেন।
এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় তড়িৎ বিশ্লেষণ (Electrolysis)
শিল্পক্ষেত্রে হাইড্রোজেনকে বিভিন্ন রঙের নামে আলাদা করা হয়, যেমন:
- সবুজ হাইড্রোজেন
- নীল হাইড্রোজেন
- ধূসর হাইড্রোজেন
- টারকোয়েজ হাইড্রোজেন
এর মধ্যে সবুজ হাইড্রোজেনকে সবচেয়ে পরিষ্কার পদ্ধতি হিসেবে ধরা হয়।
যখন জল (H₂O) কে Electrolysis প্রক্রিয়ায় ভাঙা হয় এবং এই প্রক্রিয়ার বিদ্যুতের যোগান দেওয়া হয় নির্মল শক্তির মত উৎস যেমন সৌর বা বায়ু শক্তি থেকে, তখন যে হাইড্রোজন তৈরি হয় তাকে বলা হয় Green Hydrogen।
গ্রিন হাইড্রোজেন তৈরির প্রক্রিয়ায় কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার হয় না, তাই এটি সম্পূর্ণ নির্মল শক্তির উৎস।
National Green Hydrogen Mission কী?
ভারত সরকার ২০২৩ সালে National Green Hydrogen Mission চালু করে। এর মূল লক্ষ্য হলো একটি শক্তিশালী Green Hydrogen ecosystem তৈরি করা।
- Green Hydrogen উৎপাদন বৃদ্ধি
- Electrolyser ম্যানুফ্যাকচারিং
- শিল্পে গ্রিন Hydrogen ব্যবহার বাড়ানো
- আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাজার তৈরি
এই মিশনের উদ্দেশ্য ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর পাঁচ মিলিয়ন টন সবুজ হাইড্রোজেন ক্ষমতা অর্জন করা ফলে আশা করা যায় হল সবুজ হাইড্রোজেনের তৈরির খরচ প্রতি কেজিতে ১.৫ ডলারে নেমে আসবে।
মিশনের উদ্দেশ্য
১. Demand Creation
শিল্পে Green hydrogen ব্যবহারের জন্য নতুন চাহিদা তৈরি করা যাতে উৎপাদন আর্থিকভাবে লাভজনক হয়। উৎপাদন ও রপ্তানি বাজারের সাথে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অবস্থানগুলিতে গ্রিন হাইড্রোজেন হাব স্থাপন করা।
২. Supply Incentives
ইলেক্ট্রোলাইজারের দেশীয় উৎপাদন এবং সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদনে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা। বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে উৎসাহিত করা।
৩. Research & Development
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে নোডাল মিনিস্ট্রি মিলিতভাবে hydrogen প্রযুক্তি উন্নয়ন। পণ্যের মান এবং সার্টিফিকেশন।
Green Hydrogen থেকে Green Ammonia
পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে উৎপাদিত কার্বন-মুক্ত অ্যামোনিয়া। এই প্রক্রিয়ায় জলের hydrogen এবং বাতাসের nitrogen ব্যবহার করে ammonia তৈরি করা হয়। Green hydrogen ব্যবহার করে Green Ammonia (NH3) তৈরি করা যায়, যা সার (fertilizer) শিল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রচলিত পদ্ধতিতে অ্যামোনিয়া তৈরিতে সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়, ফলে এই প্রক্রিয়ায় অনেক কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়। কিন্তু গ্রিন অ্যামোনিয়া তৈরিতে কার্বন নিঃসরণ প্রায় নেই বললেই চলে। এই কারণে এটি পরিবেশের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ।
শক্তি সঞ্চয়ে গ্রিন হাইড্রোজেনের ভূমিকা
শিল্পক্ষেত্রে Green Hydrogen এর ব্যবহার
- সার শিল্প
- পেট্রোকেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি
- ইস্পাত ও ভারি শিল্প
- সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি
- জাহাজের জ্বালানী
- বিমানের জ্বালানী
বিশেষ করে heavy industry and transport sector-এ কার্বন নির্গমন কমাতে hydrogen গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভারতের জন্য Green Hydrogen কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ভারত বর্তমানে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আমদানি করে। নির্মল শক্তি ব্যাবহার করে Green hydrogen উৎপাদন করলে এই নির্ভরতা অনেক কমতে পারে এবং দেশের শক্তি নিরাপত্তা (Energy security) নিশ্চিত করা যায়।
- কার্বন নির্গমন কমবে
- শক্তি নিরাপত্তা বাড়বে
- নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থান তৈরি হবে
Hydrogen: ভবিষ্যতের জ্বালানি
অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন ভবিষ্যতের “fuel of the future” হতে পারে hydrogen। কারণ এটি নির্মল, স্টোর করা যায় এবং গ্রিড স্টেবল রাখতে চাহিদার চেয়ে বেশি সোলার বা উইন্ড এনার্জি ব্যবহার করে হাইড্রোজনে উতপাদন হল ভার্চুয়াল 'এনার্জি স্টোরেজ' ব্যবস্থা।
National Green Hydrogen Mission সফল হলে আগামী দশকে ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় hydrogen উৎপাদক দেশ হিসেবে উঠে আসতে পারে। এক কেজি পরিমান হাইড্রোজেন প্রস্তুত করতে প্রায় ৯ লিটার জলের প্রয়োজন হয়। ইলেকট্রোলিসিস পদ্ধতিতে হাইড্রোজেন উতপাদন প্রক্রিয়ার দক্ষতা প্রায় ৮০ শতাংশ।
আরও পড়ুন (Related Posts):
- ১. ভারতের নবায়নযোগ্য শক্তি: ২০২৫ সালে সৌর ও বায়ু শক্তিতে নতুন রেকর্ড
- ২. ডেটা সেন্টার ও সৌরবিদ্যুৎ: ভারতের জ্বালানি নীতিতে নতুন পরিবর্তন ও ডিসকম (DISCOM) আপডেট
- ৩. IEA-র সতর্কতা: জলবায়ু পরিবর্তন ও ২০৩৫ সালের জ্বালানি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ
- ৪. PM Surya Ghar Yojana: অনলাইনে আবেদন, ভর্তুকি এবং বিস্তারিত তথ্য (২০২৬ আপডেট)
FAQ: Green Hydrogen Mission
Green hydrogen কী?
Renewable energy ব্যবহার করে electrolysis প্রক্রিয়ায় তৈরি hydrogen কে green hydrogen বলা হয়।
ভারতের Green Hydrogen Mission কবে শুরু হয়?
ভারত সরকার ২০২৩ সালে National Green Hydrogen Mission চালু করে।
Green hydrogen কোথায় ব্যবহার হবে?
ইস্পাত, রাসায়নিক, অ্যামোনিয়া, সিমেন্ট শিল্প ছাড়াও এবং বিমানের জ্বালানী হিসেবে hydrogen ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও ভবিষ্যতে জাহাজ, ট্রাক বা ভারী পরিবহনে পরিষ্কার জ্বালানি হিসেবে গ্রীন অ্যামোনিয়া ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতের আসামের জোড়হাটে প্রথম গ্রিন হাইড্রোজেন প্ল্যান্ট চালু হয়েছে। এছাড়া অন্ধ্রপ্রদেশের পুডিমাদাকায় সবচেয়ে বড় হাব, গুজরাটের কান্দলা ও তামিলনাড়ুর ভিও চিদাম্বরনার বন্দরে বন্দর-ভিত্তিক প্রকল্প এবং হরিয়ানার পানিপথে আইওসিএল (IOCL)-এর রিফাইনারিতে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদিত হচ্ছে।
No comments:
Post a Comment