20 Dec 2022

এক টুকরো সূর্য: ফিউশন প্রযুক্তির ব্রেকথ্রু ও শক্তির নতুন দিগন্ত

সূর্যের শক্তির উৎস ও নিউক্লিয়ার ফিউশন: শক্তির নতুন যুগের সূচনা

আমেরিকার ডিপার্টমেন্ট অফ এনার্জি ঘোষণা করেছে যে ক্যালিফোর্নিয়ার লরেন্স লিভারমোর ন্যাশানাল ল্যাবরেটরির গবেষকরা গত ৫ই ডিসেম্বর ন্যাশনাল ইগনিশন ফ্যাসিলিটির পরীক্ষাগারের প্রথম নিয়ন্ত্রিত ফিউশন পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।

সূর্যের শক্তির উৎস ও নিউক্লিয়ার ফিউশন
সূর্যের কেন্দ্রে চলমান নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রক্রিয়া

ফিউশন বিক্রিয়া কী

ফিউশন বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে এক বা একাধিক ভিন্ন মৌলের পরমাণু তৈরি করে তাই নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া বলে। দুটি আলাদা মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াস জুড়ে এক হয়ে গেলে নতুন নিউক্লিয়াসের ভর সামান্য কমে যায়। এই কমে যাওয়ার ভরই শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

আইনস্টাইনের বিখ্যাত ফর্মুলা: E = mc²

এখানে c অর্থাৎ আলোর গতিবেগ অকল্পনীয় এক সেকেন্ডে প্রায় তিন লক্ষ কিলোমিটার। তাই খুব সামান্য ভরের পরিবর্তন থেকেও বিপুল শক্তি পাওয়া যায়।

ফিউশন পরীক্ষার ‘ব্রেকথ্রু’

এই ‘ব্রেকথ্রু’ র অর্থ হল, যে পরিমাণ শক্তি খরচ করে দুটি নিউক্লিয়াস যুক্ত করা হয়েছে, তার তুলনায় সংযুক্তির পরে পাওয়া শক্তির পরিমাণ অনেক বেশি। ফিউশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সূর্য ও নক্ষত্র শক্তি পায় যা পৃথিবীর জীবনের মূল উৎস।

সূর্যের কেন্দ্রে নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রক্রিয়া
নিউক্লিয়ার ফিউশনের চিত্র ও ভরের শক্তিতে রূপান্তর প্রক্রিয়া

দুটি নিউক্লিয়াস জুড়ে যে নতুন পরমাণু তৈরি হয় তা হল হিলিয়ামের একটি আইসোটোপ, যা খুবই ক্ষণস্থায়ী। কারণ এতে তখন তিনটি নিউট্রন থাকে। পরে একটি নিউট্রন বেরিয়ে গিয়ে দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রনযুক্ত সাধারণ হিলিয়ামে পরিণত হয়।

ফিউশন রিয়াক্টার

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন প্রযুক্তিতে ফিউশন রিয়াক্টার তৈরির কাজ চলছে। টোকোম্যাক একটি উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তি, যার ধারণা প্রথম উঠে আসে ১৯৫০ এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নে।

লেজার রশ্মির মাধ্যমে ফিউশন জ্বালানি সংকোচন প্রক্রিয়া
লেজার রশ্মির মাধ্যমে ফিউশন জ্বালানি সংকোচন প্রক্রিয়া

এই ব্রেকথ্রুতে ২.০৫ মেগা জুল শক্তি খরচ করে ৩.১৫ মেগা জুল শক্তি পাওয়া গেছে। ফিউশন বিক্রিয়া সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব, এতে কোনও ক্ষতিকর গ্যাস তৈরি হয় না। শক্তির উৎস হিসেবে ফিউশন আদর্শ। পারমাণবিক ফিশনের তুলনায় এতে তিন থেকে চারগুণ বেশি শক্তি পাওয়া যেতে পারে।

No comments:

Post a Comment

Featured post

২০২৫ সালে ভারতের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি: সৌর ও বায়ুশক্তিতে রেকর্ড উৎপাদন

২০২৫ সালে ভারতের রিনিউএবল এনার্জি সেক্টর আর শুধু “অলটারনেটিভ” নয়; এখন সেটা দেশের পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেম-এর অন্যতম অংশীদার। সোলার, উইন্ড, ব...

পপুলার পোস্ট