3 Dec 2025

গুলমোহর: কৃষ্ণচূড়ার ঝরা পাতা আর লাল আগুনের অপেক্ষা

নিউটাউনে পলাশ ফুল

প্রকৃতি আমাদের দুহাত ভরে দেয়, কিন্তু আমরা কি সবসময় তার মূল্য বুঝতে পারি? কখনো কখনো রাস্তার ধারের একটি মহীরুহ আমাদের কাছে কেবলই একগুচ্ছ শুকনো পাতা বা হাঁটাচলার পথে সামান্য বাধা হিসেবে ধরা দেয়। কিন্তু সেই প্রতিটি গাছের ডালপালা আর শিকড়ের গভীরে লুকিয়ে থাকে লড়াই আর বেঁচে থাকার এক অনন্য ইতিহাস। রোদ-ঝড়-জল সামলে বেড়ে ওঠা একটি কৃষ্ণচূড়া বা গুলমোহর কেবল গাছ নয়, বরং সে সময়ের এক নীরব সাক্ষী। সময়ের আবর্তে তার রূপ বদলায়। কখনো সে রিক্ত, কখনো বসন্তের রক্তিম আভায় উদ্ভাসিত। অথচ অবলীলায় কেউ বলে ওঠে, "কেটে ফেললেই ভালো হয়।" এই নিষ্ঠুরতা আর কৃষ্ণচূড়ার অবিচল লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটেই আজকের এই স্মৃতিকথা।

চিত্রঃ নিউটাউনের রাস্তার ধারে ফুটে থাকা লাল পলাশ

(১)

গতকাল রাস্তার ধারে যে কৃষ্ণচূড়া গাছের তলায় ক্যাম্প করেছিলাম, ফুটপাতে পড়ে থাকা হলুদ ঝরাপাতা পরিস্কার করার সময় একজন বলছিল, গাছটি ঝামেলা করছে, কেটে ফেললেই ভালো হয়।

কথাটা কানে আসতেই, আঁতকে উঠি। আমাদেরও তো একটি কৃষ্ণচূড়া আছে, নিজেরাই যত্নকরে বড় করেছি। বহুকাল আগে সম্পূর্ণ ন্যাড়া গাছটি দেখে মনে হয়েছিল, হয়তো মরেই যাবে, কিন্তু বেঁচে গেছে। মাঝে একবার প্রচন্ড ঝড়ে ভেঙে পরে কিন্তু ফের মাথা তুলেছে।

(২)

রাস্তার ধারে অনেক কৃষ্ণচূড়া আছে, কিন্তু এই গাছটি বিশেষত্বহীন বিশেষ গুলমোহরশিমুল-পলাশের পাশে এই গুলমোহর বেমানান; আলাদা কোনও আদিখ্যেতা নেই।

সে আপন মনে দোলে কখনো দখিনা হাওয়ায় কখনও শীতের হাওয়ায়। চৈত্র বৈশাখের দাবদাহে সে নিরুত্তাপ। সারা বছরই তার সবুজ পাতার ডাল, ফুটপাথে নুইয়ে থাকে।

চিত্রঃ নিউটাউনের রাস্তার ধারে ফুটে থাকা লাল কৃষ্ণচূড়া

গুলমোহরের সুবাস নেই তবে ভিন্ন ঋতুতে তার ভিন্ন বাহার। ন্যাড়া, ঘন সবুজ পাতার ছাওয়া আর সবুজ পাতার ফাঁকে লাল ফুল।

চারিদিক ছাতিম ফুলের গন্ধ মাতোয়ারা কিন্তু বৈচিত্রহীন গুলমোহর এই হেমন্তেও অবিচল, শীতের আগমন বার্তা দিচ্ছে। পাতা হঠাৎ বিবর্ণ হতে শুরু করেছে; হলুদ পাতা ঝড়ছে।

অদ্ভুত না! ঝরা হালকা সবুজ পাতার ফাঁকে লাল রঙের কিছু গুলবাহার এখনও নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে।

(৩)

আর মাত্র মাস খানেক বাদেই গুলমোহর ন্যাড়া হবে কিন্তু আমি নিশ্চিত তার আগেই সবুজ পাতা ডালেডালে মাথাচাড়া দেবে। এবং গ্রীষ্ম আসার আগেই যেন সবাইকে দুপুরের প্রখর রৌদ্রের আলো পাতার আড়ালে রেখে পথিকের বিশ্রামে নিজেকে মেলে ধরবে।

শুধু অপেক্ষা বসন্তের এবং বিদায়। কৃষ্ণচূড়ার জন্য অপেক্ষা মানেই — লাল আগুনের জন্য অপেক্ষা।

No comments:

Post a Comment

Featured post

২০২৫ সালে ভারতের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি: সৌর ও বায়ুশক্তিতে রেকর্ড উৎপাদন

২০২৫ সালে ভারতের রিনিউএবল এনার্জি সেক্টর আর শুধু “অলটারনেটিভ” নয়; এখন সেটা দেশের পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেম-এর অন্যতম অংশীদার। সোলার, উইন্ড, ব...

পপুলার পোস্ট