টাইম ট্রাভেলের প্যারাডক্স ও আরশিনগরের পড়শি
অতীতের অলিগলি ও টাইম ট্রাভেল
সেই কবে থেকেই হাঁটছি, কিন্তু এত পথ পেরিয়ে এসেছি যে অতীতে ফিরে সেই অলিগলিতে ঘুরে বেড়ানো আর সম্ভব নয়! মনে পড়ল টাইম ট্রাভেলের প্যারাডক্স (Grandfather Paradox)। নাতি যদি অতীতে ফিরে দাদুকেই খুন করে আসে, তবে নাতির অস্তিত্ব থাকবে কী করে? তবুও ভাবি না, অতীতে ফিরে পরীক্ষাগুলো ভালোভাবে দিয়ে আসব!
আলোর গতি ও স্মৃতির দৃশ্যপট
স্কুল জীবনে মনে হত, দৌড় প্রতিযোগিতায় যে আগে দৌড়ায়, সে যেমন পেছনের সবাইকে দেখতে পারে, তেমনি যদি আলোর গতির চেয়েও দ্রুত ছুটতে পারতাম, তাহলে হয়তো অতীত দৃষ্টিসীমায় চলে আসতাম। ভাবার দোষ নেই! চলমান জগতে আলোর গতি সবার কাছে সমান, এই ধারণাটাই তো এক “ধরে নেওয়া সত্য”।
কানে ভেসে আসে, তিনতলায় কেউ গাইছে, “ছায়ার মতন মিলায় ধরণী, কূল নাহি পায় আশায় তরণী…”। লালন ফকিরের গান মনে পড়ে, “বাড়ির কাছে আরশিনগর, সেথা এক পড়শি বসত করে; আমি একদিনও না দেখিলাম তাঁরে।”
লালনের আরশিনগর ও আশার তরণী
ভাবনা আলোর চেয়েও দ্রুতগামী। চিন্তা করছিলাম অতীতে ফেরার কথা, সেখান থেকে হঠাৎই উঠে এল “ছায়ার মতন মিলায় ধরণী ... কূল নাহি পায় আশায় তরণী...”! অবচেতন মন মুহূর্তে পৌঁছে গেল লালন ফকিরের সেই আরশিনগরে — “বাড়ির কাছে আরশিনগর, সেথা এক পড়শি বসত করে; আমি একদিনও না দেখিলাম তাঁরে।”
লালনের গান শুনেছি, কিন্তু মর্মার্থ উদ্ধার আমার ব্রেড-বাটার নয়। লালন হিন্দু না মুসলিম — এই কৌতূহলও কখনও জাগেনি। ‘তারে ধরতে পারলে মন বেড়ি দিতাম পাখির পায়…’ - না রবি, না লালন, কেউই ধরা দেন না। ধরার চেষ্টা করলেই হারিয়ে যান।
স্মৃতির ছাই ও হুতাশ
অতীতে ফিরে যাই। আরশিনগরের পাড়ে বসে দেখি, নীল, কাঞ্চন, পিনু, সুহাসদের সাথে আড্ডার দৃশ্য স্পষ্ট, কিন্তু স্পর্শ পাই না। খোলা মাঠে দৌড়াচ্ছি।
তিন তলার গান শেষ হয়েছে। গানের মাঝের অংশটা খেয়াল করিনি। কিন্তু বলতে পারছি না, সে কি ফের একবার গাইবে!
আপনার মনে বসিয়া একেলা
অনলশিখায় কী করিনু খেলা,
দিনশেষে দেখি ছাই হল সব
হুতাশে!
শেষ কথা
ছুটির সন্ধ্যায় ছাতিম গাছ তলায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়, আমাদের জীবনটাও কি এক প্রকার টাইম ট্রাভেল নয়? আমরা প্রতিনিয়ত বর্তমান থেকে ভবিষ্যতে ছুটছি, অথচ আমাদের মন পড়ে আছে সেই ফেলে আসা আরশিনগরে।
No comments:
Post a Comment