31 Dec 2025

উত্তর মেরুর বাড়ি ও বছরের শেষ পাটিসাপটা: ট্যাবলেটের সাথে এক সন্ধ্যা!

নতুন বছরের শেষ দিন

বছরের শেষ দিন। বাইরের তাপমাত্রা ১৫-১৬° সেন্টিগ্রেড, হালকা কুয়াশার চাদর। হাওয়া নেই। আকাশ পরিষ্কার থাকলেও গুটিকয়েক তারা আর মাথার উপর পশ্চিম ঘেঁসে আধা চাঁদ।

রাস্তায় স্ট্রিট লাইটের সাদা আলো। লাল-সবুজ বাতি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করছে। গাড়ির সংখ্যা এবং গতি অন্যদিনের মতোই। গাছের পাতা শিশিরে ভেজা। পাখিগুলি অন্য রাতের মতোই পাতার আড়ালে ঘুমিয়ে গেছে। ফুচকা, মোমোর দোকানে অতিরিক্ত কোনও ভিড় নেই।

Last sunset of the year 2025 captured from New Town, Kolkata, reflecting year-end emotions

ছবিঃ ২০২৫ সালের শেষ সূর্যাস্ত—নিউটাউনের আকাশজুড়ে বিদায়ের রঙ

(১)

চায়ের দোকানে পরিচিত মুখ। মাধবীলতা গাছের আড়ালে থাকা আলো আজও জ্বলেছে। দূরে ছাতিমগাছের ফুল থেকে গন্ধ ভেসে আসছে। রাস্তায় পড়ে আছে রুদ্র পলাশের পাপড়ি। কোথাও কোনও অস্বাভাবিকতা নেই। রাস্তার উল্টোদিকে ১২ তলা বাড়ির মাত্র চারটি ফ্ল্যাটে রোজকার মতো আজও আলো দেখা যাচ্ছে। মশারা বিরামহীন।

শীতের সন্ধ্যাটা বেশ জমে উঠেছে নলেন গুড়ের ঘ্রাণে। পাটিসাপটা পিঠের লোভ সামলানো দায়, তাই ফোনটা করলুম কাকা ওরফে আমার সেই ধুরন্ধর কাকাকেই। উদ্দেশ্য, ফেরার পথে যেন এক বাক্স নিয়ে আসে!

(২)

কিন্তু কাকা তো জাঁদরেল লোক! ফোন ধরতেই শর্ত জুড়ে দিল, “প্রশ্নের উত্তর ঠিক হলে যা চাইবি তাই নিয়ে যাব। বল তো দেখি, আমি একটা বাড়ি বানাতে চাই যার চারদিকই হবে দক্ষিণমুখী। সেই বাড়ি তৈরির অ্যাড্রেসটা কী হবে?”

ঘড়ি দেখলুম। ঠিক ২৩ সেকেন্ড সময় নিলুম। তারপর খুব শান্ত গলায় অ্যাড্রেসটা দিয়ে দিলুম। কাকা অবাক! কিন্তু কথা তো ফেরানো যায় না, তাই শেষমেশ এক বাক্স গরম পাটিসাপটা নিয়েই হাজির হলো সে।

(৩)

পিঠে খেতে খেতে ভাবলুম, বাজি যখন লড়তেই হবে তখন কাকার কেল্লাটাও একটু ফতে করি। বললুম, “কাকা, আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে কাল কিন্তু নলেন গুড়ের সন্দেশ মাস্ট!”

কাকার মুখে তখন সিকিভাগ পিঠে। অস্পষ্ট কিন্তু আত্মবিশ্বাসী গলায় উত্তর দিল, “কী প্রশ্ন শুনি?” আমি জিজ্ঞাসা করলুম, “ইংরেজি নববর্ষ ঠিক ক’টায় শুরু হবে?”

কাকা পিঠেটা চিবিয়ে গিলে নিয়ে বেশ আয়েশ করে বলল, “এ তো খুব সহজ, রাত বারোটার পর।” আমি হাসলুম। “না কাকা, ‘পরে-টরে’ নয়, ঠিক ক’টায় শুরু, সেটা বলতে হবে।”

(৪)

কাকা এবার একটু ধাঁধায় পড়ল। ওর অস্ফুট স্বরে শুনতে পেলুম— ‘বারোটা এক’, ‘বারোটা শূন্য দশমিক শূন্য এক’, ‘বারোটা শূন্য দশমিক শূন্য শূন্য শূন্য শূন্য এক’... কিন্তু সময়ের সেই পরম বিন্দু আর খুঁজে পেল না সে। শেষে হার মেনে বলল, “নাঃ হবে না কিন্তু হবে!” অবশ্য কাকা হার মানুক বা না মানুক, কালকের নলেন গুড়ের সন্দেশ কিন্তু আমার জন্য পাক্কা!

আপনাদের জন্য প্রশ্ন:

(১) আচ্ছা, বলুন তো সেই বাড়ির ঠিকানাটা কী ছিল যার চারপাশই দক্ষিণমুখী?
(২) আর নববর্ষ শুরু হওয়ার সেই 'পরম মুহূর্ত' কি সত্যিই ঘড়ির কাঁটায় ধরা যায়? যারা উত্তর জানেন না তারাই কমেন্ট করুন।

8 comments:

Featured post

National Green Hydrogen Mission India: লক্ষ্য, প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ

ভারতের National Green Hydrogen Mission কী, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ, এবং কীভাবে এটি ভারতকে একটি Global Green Hydrogen Hub বানাতে পারে - ...

পপুলার পোস্ট