3 Dec 2025

রায়হানার নবমীর সাজ ও অদ্ভুত পাগলামি

রায়হানা দিদির 'হেয়ার কেয়ার' ও নবমীর অদ্ভূত সন্ধে

সকাল থেকেই মালুম হচ্ছিল আজ কিছু একটা হুলস্থুল ঘটবে। বাড়ির সবার চেপে রাখা উত্তেজনা। রায়হানা আমার দিদি, কিন্তু খুব একটা বড় নয়। গত রাতেই বলেছে আজ নবমীর সন্ধেয় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বেরোবে।

নবমীর সাজে রায়হানা চুলচর্চা আর কৌতুকপূর্ণ উন্মাদনা

ছবিঃ নবমীর সাজে রায়হানা চুলচর্চা আর কৌতুকপূর্ণ উন্মাদনা

আমি তখনও ঘুম থেকে উঠিনি। সকাল আটটাতেই দিদি কন্ডিশনার শ্যাম্পুর বোতল নিয়ে ঢুকেছে বাথরুমে। মা ধৈর্য হারিয়ে বলছে, “কি রে, এতক্ষণ ধরে শ্যাম্পু?” বন্ধ দরজার ওপার থেকে ভেসে এলো দুটি শব্দ, “হেয়ার কেয়ার!”

আমি ততক্ষণে সকালের ব্রেকফাস্ট শেষ করেছি। দশটা বাজে। বুঝলাম এবার চুল শুকোনোর পালা। হেয়ার ড্রায়ার চলছে। দিদি নিজের সঙ্গেই কথা বলছে “আজকের চুল একদম বিজ্ঞাপনের মতো চকচক করতে হবে।”

(১)

দুপুরে খাওয়া শেষ। দিদি বলে, ঘুমালে নাকি মুখ ফোলাফোলা লাগে। তাই দুপুরে ঘুমায়নি। সারা দুপুর কাটল সাজুগুজুর টিপস, একে ওকে ফোন, বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ আর সাজুগুজুর গল্পে।

বিকেলে ফেসওয়াশ দিয়ে শুরু। তারপর টোনার, ময়েশ্চারাইজার প্রতিটি পর্ব শেষ হচ্ছে অতি যত্নের সঙ্গে। ফাউন্ডেশন লাগাতে গিয়ে আয়নার সামনে বেশ কিছুক্ষণ নিজের মুখের সঙ্গে কথা বলল “আজকে আমাকে চিনতে পারবে তো সবাই?” কনসিলার দিয়ে ডার্ক সার্কেল ঢাকা, তারপর ব্লাশ আর হাইলাইটার। আমি উস্কে দিয়ে বললাম, “গাল একেবারে আলোয় ঝলমল করছে।” দিদি ঠোঁট বেঁকিয়ে বলল, “যাঃ!”

(২)

সন্ধ্যার প্রস্তুতি শুরু হলো। ভ্রু টেনে শেপ দেওয়া হলো। চোখে বাদামি আইশ্যাডো, ওপর দিয়ে কালো আইলাইনার টানা। কাজল বসাতেই চোখ যেন হঠাৎ করে গভীর হয়ে উঠল। মাসকারা দিয়ে পলক দীর্ঘ হলে নিজেই বলল, “এ কি! আমার চোখ!”

এবার খোঁপার পালা। খোপা বানানো হলো, কিন্তু ফুল নেই। দিদি বলল, “ফুল কোথায়?” আমি ভয়ে জবার কথা না বলে বাগান থেকে গোলাপ এনে দিলাম।

প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এবার সবচেয়ে জটিল কাণ্ড শাড়ি পরা। দেরাজের সমস্ত শাড়ি বিছানায় লাট করা হচ্ছে, কোনোটাই পছন্দ হচ্ছে না। শেষে ঠিক হলো লাল সোনালি কাতান শাড়ি। আঁচল ঝলমল করছে। গলায় সরু সোনার চেন, কানে ঝুমকা, হাতে লাল চুড়ি। কপালে গোল লাল টিপ বসাতেই সাজ সম্পূর্ণ হলো।

(৩)

এর মাঝেই দিদির বন্ধুরা ঝুমাদি, লাবনি, পিয়াসী সবাই হাজির। আমায় নির্দেশ দেওয়া হলো হালকা গোলাপি রঙের বেল্ট দেওয়া চটি বের করতে। তাই করলাম।

দিদিও রেডি। কিন্তু এ কী কাণ্ড! আয়নার দিকে তাকিয়ে দিদি ঘোষণা করল, “না! আমি আজ বাইরে ঘুরতে যাব না। সাজুগুজু নষ্ট হয়ে যাবে।”

দিদির পাগলামি আর অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা আমি আর বুঝতে পারি না। আমি বাড়ির বাইরে। রাস্তার দোকানে অর্জুনদা বসেছিল। চেঁচিয়ে বলল, “রায়হানা কোথায় রে?” আমি কোনও উত্তর দিইনি, তবে মনে মনে বলেছি, চুপচাপ বসে থাক চাঁদু।

2 comments:

Featured post

National Green Hydrogen Mission India: লক্ষ্য, প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ

ভারতের National Green Hydrogen Mission কী, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ, এবং কীভাবে এটি ভারতকে একটি Global Green Hydrogen Hub বানাতে পারে - ...

পপুলার পোস্ট