ভূমিকা
কবিরা চাঁদকে নিয়ে কবিতা লেখেন, সাহিত্যিকরা লেখেন গল্প। হার্ডকোর বস্তুবাদীদের কাছে সেটি নেহাতই একটা 'সেলিস্টিয়াল বডি', পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশী এবং একমাত্র উপগ্রহ। চাঁদ বিষয়ে আমাদের অপার কৌতূহল। এখন মুন এক্সপ্লোরাররা চাঁদের মাটিতে 'হিলিয়াম ৩' বা ট্রিটিয়াম খুঁজছে। গোটা পৃথিবীতে নাকি এই অমূল্য জ্বালানি মাত্র ৮০ কেজির মতো আছে।
খেলার মাঠের স্কেলে সৌরজগৎ
একটি বিশাল ফুটবল মাঠকে মাপার স্কেল মনে করা যাক। এই মাঠের এক প্রান্তে রাখা একটি গরুর গাড়ির চাকা সূর্য হলে, অন্য প্রান্তে রাখা একটি ছোট্ট মটরশুঁটির দানা হবে এই পৃথিবী। এই স্কেলে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব মাত্র ৮৫ মিটার হলেও, নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরি থাকবে প্রায় ২৩,০০০ কিলোমিটার দূরে।
নাসরিনের গল্প ও চাঁদের নজরদারি
ছোটবেলায় নাসরিন তার মাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, "চাঁদ কেন ঘুমায় না?" মা বলেছিলেন, "শিশুরা না ঘুমানো পর্যন্ত চাঁদ জেগে থাকে।" আজ নাসরিনের চুলে পাক ধরেছে। নাতির তাকে সে একই প্রশ্ন করে। তিনি উত্তর দেন, "দুষ্টুদের ওপর নজর রাখার জন্য চাঁদ জেগে থাকে।"
সাহিত্যের জ্যোৎস্না বনাম বাস্তব
নজরুল লিখেছেন, "চাঁদ হয়ে রব আকাশের ও গায়।" অন্যদিকে ক্ষুধার্ত সুকান্তর চোখে পূর্ণিমার চাঁদ ছিল 'ঝলসানো রুটি'। পুরাণে চাঁদের বয়স সাত লক্ষ কুড়ি বছর বলা হলেও বিজ্ঞানের হিসেবে তা প্রায় ৪৪২.৫ কোটি বছর।
কৌশলী কলম্বাস
১৫০৪ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি। কলম্বাস জানতেন সেদিন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হবে। তিনি স্থানীয় সর্দারকে ভয় দেখিয়ে বললেন, 'ঈশ্বর ক্রুদ্ধ হয়েছেন, আজ রাতে তিনি চাঁদকে গিলে ফেলবেন!' যখন গ্রহণ শুরু হলো, স্থানীয়রা ভয়ে খাবারে ভাণ্ডার খুলে দিল। এই কৌশলে কলম্বাস ও তাঁর সঙ্গীরা রক্ষা পেয়েছিল।
চাঁদের পাহাড়
আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বত কিলিমাঞ্জারো তুষারাবৃত চূড়ার কারণে ইউরোপীয় এক্সপ্লোরারদের কাছে পরিচিত ছিল “The Mountain of the Moon” হিসেবে। কিলিমাঞ্জারো যেন রুক্ষ আফ্রিকার বুকে এক রহস্যময় চাঁদের পাহাড়।
ফিরে যাওয়া
১৯৭২ সালের পর মানুষ আর চাঁদে যায়নি। তবে নাসা তাদের আর্টেমিস কর্মসূচি অনুযায়ী ২০২৬ সালে নভোচারীদের আবার চাঁদের কক্ষপথে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা হবেন এই শতকের প্রথম মানুষ যারা এত কাছ থেকে চাঁদকে দেখবেন।
শেষকথা
চাঁদ বিজ্ঞানীর কাছে খনিজ ভাণ্ডার, কবির কাছে বিলাপের সুর, আর আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাছে এক অদ্ভুত বিস্ময়। চাঁদ আজও জেগে আছে, এবং সে জেগে থাকবে আরও কয়েক বিলিয়ন বছর।
আরও পড়ুন: উত্তর মেরুর বাড়ি ও বছরের শেষ পাটিসাপটা: ট্যাবলেটের সাথে এক সন্ধ্যা!
Excellent
ReplyDelete