Showing posts with label Solar PV. Show all posts
Showing posts with label Solar PV. Show all posts

16 Feb 2026

সৌর শক্তিতে ভারতের বড় রেকর্ড: মডিউল উৎপাদন ক্ষমতা ১৬২ GW ছাড়ালো

১০ মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট, ভজনঘাট, নদিয়া, পশ্চিমবঙ্গ

চিত্রঃ ১০ মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট, ভজনঘাট, নদিয়া (পশ্চিমবঙ্গ)

ভারতের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি (Renewable Energy) সেক্টরে এক অভাবনীয় অগ্রগতি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতের সোলার পিভি (Solar PV) মডিউল তৈরির সক্ষমতা ১৬২ গিগাওয়াট (GW) ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৪ সালে যেখানে ভারতের সক্ষমতা ছিল মাত্র ২.৩ GW, সেখানে গত ১২ বছরে তা প্রায় ৭০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি শুধু ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর দৃষ্টান্ত নয়, বরং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা (Energy Security) শক্তিশালী করার পথে একটি বড় মাইলফলক।

ভারতের সৌর মডিউল উৎপাদন সক্ষমতার টাইমলাইন (২০১৪–২০২৬)

নিচে ভারতের Solar PV Manufacturing Capacity বৃদ্ধির একটি চিত্র দেওয়া হলো:

  • ২০১৪: ২.৩ GW
  • মার্চ ২০২৩: ৫৫–৬০ GW (Operating Capacity)
  • মার্চ ২০২৫: ~৭২ GW+
  • ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬: ১৬২.১ GW (ALMM অনুযায়ী)
  • ২০২৬/২০২৭ (প্রজেকশন): ১৬৫ GW+
  • FY28 লক্ষ্য: ২০০ GW অতিক্রমের সম্ভাবনা

২০২৬ সালে ভারতের সৌর উৎপাদন সক্ষমতার মূল কারিগর

৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ALMM (Approved List of Models and Manufacturers)–এর অধীনে ভারতের মোট মডিউল উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ১৬২.১ GW। এই দ্রুত বৃদ্ধির পেছনে সরকারের দুটি প্রধান নীতি কাজ করেছে:

  1. PLI (Production Linked Incentive): দেশীয় উৎপাদকদের আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে বৃহৎ আকারে উৎপাদনে উৎসাহিত করা।
  2. ALMM নীতি: সরকারি ও সরকার-সমর্থিত প্রকল্পে বিদেশি মডিউল আমদানি সীমিত করে দেশীয় পণ্যের বাধ্যবাকতা তৈরি করা।

ALMM কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

ভারতের নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রক (MNRE) ২ জানুয়ারি ২০১৯ সালে “Approved Models and Manufacturers of Solar Photovoltaic Modules (Order, 2019)” জারি করে।

ALMM-এর মূল লক্ষ্য:
  • দীর্ঘমেয়াদী নিশ্চয়তা: সৌর প্রকল্প সাধারণত ২৫ বছরের জন্য হয়, তাই নির্ভরযোগ্য ওয়ারেন্টিযুক্ত মডিউল নিশ্চিত করা জরুরি।
  • প্রতারণা রোধ: অন্য কোথাও উৎপাদিত মডিউল নিজের নামে চালানোর প্রবণতা বন্ধ করা।
  • আসল উৎপাদক যাচাই: পণ্যটি প্রকৃতপক্ষে ঘোষিত কারখানাতেই তৈরি হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা।

ALMM List-I ও List-II: বর্তমান অবস্থা

  • LIST-I (সৌর মডিউল): নির্মাতাদের তালিকা (৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ আপডেট)।
  • LIST-II (সৌর সেল): নির্মাতাদের তালিকা (১৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রিভাইজ করা হয়েছে)।

মনে রাখবেন: শুধুমাত্র ALMM List-I–এ অন্তর্ভুক্ত মডেল ও নির্মাতারাই সরকারি প্রকল্প, নেট-মিটারিং, ওপেন অ্যাক্সেস এবং পিএম সূর্য ঘর: মুফত বিজলী যোজনা-র মতো প্রকল্পে মডিউল সরবরাহ করতে পারে।

মডিউলে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বনাম সেলে ঘাটতি

মডিউল উৎপাদনে ভারত দ্রুত এগোলেও সোলার সেল (Solar Cell) উৎপাদনে এখনও কিছুটা পিছিয়ে। ২০২৬ সালের শুরুতে সেল উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ২৬–২৭ GW, যা ২০২৮ সালের মধ্যে ১০০ GW-এ পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ: Overcapacity ও রপ্তানি সমস্যা

  1. অতিরিক্ত উৎপাদন: বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা চাহিদার তুলনায় বেশি হওয়ায় সরবরাহ-চাহিদার ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে।
  2. রপ্তানি বাধা: যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির কারণে দেশীয় বাজারে মডিউল জমা হচ্ছে।
  3. ব্যাকওয়ার্ড ইন্টিগ্রেশন: ইনগট ও ওয়েফার উৎপাদনে আরও জোর দেওয়া জরুরি।

FAQ: সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী

১. সৌর পিভি মডিউলে দীর্ঘমেয়াদী ওয়ারেন্টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

সৌর প্রকল্পের লাইফ-টাইম সাধারণত ২৫ বছর ধরা হয়। তাই বিনিয়োগ সুরক্ষিত রাখতে দীর্ঘমেয়াদী ওয়ারেন্টিযুক্ত মডিউল জরুরি।

২. ALMM চালু করার প্রয়োজন কেন হয়েছিল?
প্রকৃত ম্যানুফ্যাকচারার যাচাই এবং ভোক্তার স্বার্থ রক্ষার জন্য এটি চালু করা হয়।

৩. কোন কোন প্রকল্পে ALMM বাধ্যতামূলক?
সরকারি প্রকল্প, নেট-মিটারিং এবং পিএম সূর্য ঘর যোজনায় এটি বাধ্যতামূলক।

৪. এখানে “Government” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

এর মধ্যে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এবং সকল পাবলিক সেক্টর এন্টারপ্রাইজ (CPSE & SPSE) অন্তর্ভুক্ত।

উপসংহার

২০১৪ সালের ২.৩ গিগাওয়াট থেকে ২০২৬ সালের ১৬২ গিগাওয়াট; ভারতের এই অগ্রগতি নিশ্চিত একটি উল্লেখযোগ্য অ্যাচিভমেন্ট। তবে স্থায়ী উন্নয়নের জন্য উন্নত প্রযুক্তি এবং সম্পূর্ণ ভ্যালু চেইন (Value Chain) তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে। ২০২৮ সালের মধ্যে ২০০ গিগাওয়াট অতিক্রম করতে পারলে ভারত বিশ্বের সৌরশক্তির পাওয়ারহাউস হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে।

13 Dec 2022

সোলার ফটোভোল্টাইক বা সৌরবিদ্যুৎ: সহজ পাঠ ও পশ্চিমবঙ্গে এর সম্ভাবনা

Grid Connected Rooftop Solar Power System

সোলার ফটোভোল্টাইক: সূর্যের আলো থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ

সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সবচেয়ে সরলতম প্রযুক্তি হলো ‘সোলার ফটোভোল্টাইক’। এই প্রযুক্তিতে কোনো ঘূর্ণায়মান অংশ নেই। জ্বালানির উৎস সূর্যের আলো থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। ক্যালকুলেটর থেকে শুরু করে বড় বড় ইউটিলিটি-স্কেল সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র—সবক্ষেত্রেই এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে।

১. সৌর শক্তির উৎপাদন ক্ষমতা

ব্যবহারিক দিক থেকে সারা দিনে প্রতি বর্গমিটারে সৌর শক্তির প্রাপ্ততা ৩.৯৬ থেকে ৪.২ কিলোওয়াট আওয়ার। একটি ১ কিলোওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বছরে প্রায় ১৩১৪ থেকে ১৪০২ কিলোওয়াট আওয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে পারে।

২. সরকারি পরিকাঠামো ও সংস্থা

দেশে সৌর বিদ্যুতের প্রসারে কেন্দ্রীয় সরকারের নবী এবং নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রক (MNRE) কাজ করছে। পশ্চিমবঙ্গে এর স্টেট নোডাল এজেন্সি হলো ওয়েস্ট বেঙ্গল রিনিউয়েবল এনার্জি ডেভলপমেন্ট এজেন্সি (WBREDA)।

৩. পশ্চিমবঙ্গের সৌর সম্ভাবনা

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ সোলার এনার্জি (NISE)-র তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের আনুমানিক সৌর শক্তির ক্ষমতা ৬.২৬ গিগাওয়াট। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ উইন্ড এনার্জির রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যের GHI (গ্লোবাল হরাইজন্টাল ইরেডিয়েন্স) ১৬৫ থেকে ১৭৮ ওয়াট প্রতি বর্গমিটার।

৪. মাঝারি মানের প্রাপ্তি ও কার্যকারিতা

পশ্চিমবঙ্গের সৌর শক্তির প্রাপ্তি সারাদেশের তুলনায় মাঝারি মানের। এখানে বছরে গড় সৌর শক্তির ব্যবহারযোগ্যতা অর্থাৎ ক্যাপাসিটি ইউটিলাইজেনশন ফ্যাক্টর ১৫ থেকে ১৭% এর মধ্যে রয়েছে।

Featured post

National Green Hydrogen Mission India: লক্ষ্য, প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ

ভারতের National Green Hydrogen Mission কী, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ, এবং কীভাবে এটি ভারতকে একটি Global Green Hydrogen Hub বানাতে পারে - ...

পপুলার পোস্ট