তদন্ত রিপোর্ট: শবে বরাতে নিখোঁজ রসগোল্লার রহস্য সমাধান
একটি রহস্য, চারটি সন্দেহভাজন আর এক ঘণ্টার সময়সীমা। তিতলির তদন্ত ডায়েরি থেকে উঠে আসা এই রহস্য সমাধানের খুঁটিনাটি নিচে তুলে ধরা হলো।
(১)
তিতলির মা-ই প্রথম টের পায়। ফ্রিজ খুলে দেখে রসগোল্লার ভাঁড় ফাঁকা। বাড়িতে তিতলির দাদু, দিদা, মা আর পিসি। তিতলির মায়ের বান্ধবী মৌ-আন্টি অবশ্য না এলে ঘটনার কথা জানাজানি হত না। মৌ-আন্টি বাড়িতে আসতেই তিতলির মা ফ্রিজ খোলে এবং রসগোল্লার বদলে সন্দেশ দিয়ে ম্যানেজ করে।
(২)
প্রথম সন্দেহ তিতলির দিকে, কারণ একটাই, চকোলেটের প্রতি আসক্তি। কিন্তু তিতলি জানে, সে রসগোল্লা খায়নি। তবুও সে নিশ্চিত হতে, ঠিক ঐ এক ঘণ্টা কী করছিল তা মনেমনে মিনিট টু মিনিট ভেবে নিল। না, সন্ধ্যা ছ’টা থেকে সাড়ে সাতটা অব্দি বই আর মোবাইল ঘেটেছে।
(৩)
বাবা সন্দেহের বাইরে, কারণ অফিস থেকে ফিরেছে রাত্রি পৌনে ন’টায়। দিদা বাদ, কারণ জর্দা পান। মা অভিযোগকারিণী, তাই সে বাদ। পিসি আর দাদু সন্দেহজনক, কিন্তু দাদুর তো সুগার! পিসি যে লুকিয়ে রসগোল্লা খাবে — এমনটা ভাবতেই তিতলির কষ্ট হল। পিসিই তো লুকিয়ে চকোলেট সাপ্লাই দেয়।
(৪)
সোফার সামনে একটা টুলে তিতলি বসে, বাকিরা সবাই সোফা আর চেয়ারে বসে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণে যুক্তি দিয়ে বক্তব্য রেখেছে। তিতলিও কিছু ক্রস-এক্সামিনেশন করেছে। একদম শেষে দাদুর পালা।
(৫)
পৌনে চার ফুট দূর থেকে তিতলির মনে হল, দাদুর সাদা পাঞ্জাবিতে বুকের দিকে কিছু দাগ দেখা যাচ্ছে। সে উঠে, দাদুর পাঞ্জাবির দাগে আঙুল ছুঁইয়ে বুঝতে পারে রসগোল্লার রস। তিতলির এই পর্যবেক্ষণ অবশ্য কেউ খেয়াল করেনি।
(৬)
তিতলি নিজের জায়গায় ফিরে বলল, “রহস্যের সমাধান হয়েছে।” তিতলির কথায় সবাই এ-ওর দিকে তাকায়। তিতলি একটু থেমে আবার বলতে শুরু করে।
(৭)
“আজ পবিত্র রাত, শবে বরাত। কেউ কোনো দুষ্টুমি করলে আজ শাস্তি মকুব হয়ে যায়। তবে আজ যিনি লুকিয়ে রসগোল্লা খেয়েছেন, তাকে শাস্তি পেতেই হবে। খুব বেশি শাস্তি নয়, আবার কমও নয়। রাত্তিরে বাইরে থেকে চাউমিন আর চিলি চিকেন।”
(৮)
দাদু সোফা ছেড়ে নিজের ঘরে গিয়েই ফিরে এলেন, হাতে পাঁচশ টাকার নোট। তিতলির বাবাকে বললেন, “কুইক। আজ শবে বরাত।”
আপনি কি তিতলির এই যুক্তিগুলোর সাথে একমত? কমেন্টে আপনার যুক্তি শেয়ার করুন!
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই তদন্তের পেছনের পুরো গল্পটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন: শবে বরাতে রসগোল্লা রহস্য: তিতলির গোয়েন্দাগিরি ও এক মজাদার সমাধান।
দারুণ informative
ReplyDeleteExcellent
ReplyDelete