উলফগ্যাঙ পাউলি: অঘটনঘটনপটু এক পদার্থবিদের গল্প
সুইস ফেডারেল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক উলফগ্যাঙ আর্নেস্ট পাউলি – আধুনিক কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার একজন অন্যতম স্থপতি। ১৯৪৬ সালে নোবেল প্রাইজ পাওয়ার পর আইনস্টাইন পাউলিকে তাঁর যোগ্য উত্তরসূরির স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।
অঘটনঘটনপটু ‘পাউলি এফেক্ট’
পাউলি ছিলেন অঘটনঘটনপটু! তিনি যদি কখনও কোনও এক্সপেরিমেন্টের কাছাকাছি চলে আসতেন, তখন যন্ত্রপাতিগুলি হঠাৎ কাজ করা বন্ধ করত বা ল্যাবে দুর্ঘটনা ঘটত। সহকর্মীরা মজা করে একে বলতেন ‘পাউলি এফেক্ট’। এমনকি একবার ল্যাবে দুর্ঘটনা ঘটার সময় পাউলি সেখানে ছিলেন না, পরে জানা যায় তিনি যে ট্রেনে ছিলেন সেটি তখন ল্যাবের পাশ দিয়েই যাচ্ছিল!
এক্সক্লুশন প্রিন্সিপ্যাল (Exclusion Principle)
সহজ কথায়, একটি পরমাণুর মধ্যে প্রতিটি ইলেকট্রনের কোয়ান্টাম অবস্থা আলাদা। খানিকটা বহুতল হস্টেল বিল্ডিংয়ের সিঙ্গেল শেয়ার রুমে যেমন দুজন আবাসিক একসাথে থাকতে পারেন না, ইলেকট্রনরাও তেমন।
অপবিজ্ঞানকে ব্যাখ্যা করার সময় পাউলি বলতেন, ‘এটা ভুলও নয়’ (Not even wrong)। অর্থাৎ গবেষণা পত্রটি এতটাই আজগুবি যে তাকে ভুল বলার মতো যুক্তিও নেই!
মুরগিটি রাস্তা পার হল কেন? এই ধাঁধায় পাউলির উত্তর হতো— “এপারে আরও একটি মুরগি ছিল!” তাঁর এক্সক্লুশন প্রিন্সিপ্যাল অনুযায়ী, একই পরমাণুর কোনো দুটি ইলেকট্রনের চারটি কোয়ান্টাম নাম্বার এক হতে পারে না!
পাউলি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রতিভাবান পদার্থবিজ্ঞানী। ১৯০০ সালে জন্ম নেওয়া এই বিজ্ঞানী ১৯৫৮ সালে বিদায় নিলেও কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের কোপেনহেগেন ব্যাখ্যায় তাঁর অবদান আজও অম্লান।
No comments:
Post a Comment